সর্বশেষ সংবাদ
Home / বিনোদন / অভিনেতার টাক মাথায় চুল গজাতে গিয়ে…

অভিনেতার টাক মাথায় চুল গজাতে গিয়ে…

টাক মাথায় চুল গজানোর চটকদার বিজ্ঞাপনে মজে গিয়েছিলেন তিনি। গিয়েছিলেন টাক মাথায় চুল বসাতে। কিন্তু ‘ডাক্তার’ এতটাই দক্ষ যে, বেচারা রোগি টানা ১৫ দিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইলেন! জ্ঞান ফেরার পর যখন কোনোক্রমে বাড়ি ফিরলেন, তখন তার মাথায় দগদগে ঘা। দেখে মনে হয় মাথা থেকে মাংস কেউ খুবলে নিয়েছে! এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার কোনো সাধারণ মানুষ নয়, পাকিস্তানের এক বিশিষ্ট অভিনেতা!

টাক মাথায় চুল গজানোর বিজ্ঞাপনে হামেশাই দেখা যায় একই ব্যক্তির অপারেশনের আগের এবং পরের দুটি ছবি। কিন্তু পাকিস্তানের বিখ্যাত অভিনেতা ও লেখক সৈয়দ সাজিদ হাসানের সেরকম পাশাপাশি দুটি ছবি দেখলে শিউরে উঠবেন যে কেউ। হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে গিয়ে দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা পাক অভিনেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন একাধিক ভিডিও বার্তায়। তার পরই সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

ভিডিও বার্তায় সাজিদ জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর আগে এক চিকিৎসকের সঙ্গে তার আলাপ হয়। সাজিদের কথায়, ওই চিকিৎসক কার্যত গায়ে পড়েই বন্ধুত্ব করেন। ধীরে ধীরে দুজনের কিছুটা ঘনিষ্ঠতাও তৈরি হয়। কিন্তু এই বন্ধুত্ব পর্বে  গল্পগুজবের ফাঁকে মাঝে মধ্যেই ওই চিকিৎসক তাকে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের পরামর্শ দিতেন। কিন্তু তিনি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তবে ভিতরে ভিতরে টাক নিয় কিছুটা যে হীনমন্যতা ছিল, সে কথা স্বীকার করেছেন পাক অভিনেতা। আর সেই কারণেই এক সময় ওই চিকিৎসকের পরামর্শে শেষ পর্যন্ত হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টে রাজি হন।

তার পরই শুরু হয় আসল খেলা! পাকিস্তানি অভিনেতা ভিডিওতে বলেছেন, কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই শুরু হয় কথিত ‘অপারেশন’। মাথায় খোঁচানোর কারণে ঘা হয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় অন্যান্য বহু শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন তিনি। ব্যথা আর শারীরিক কষ্টে এক সময় সংজ্ঞা হারান সাজিদ। সেভাবেই অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন ১৫ দিন! জ্ঞান ফেরার পর আর সেখানে থাকেননি। এখন অন্য জায়গায় মাথার ক্ষতের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

আর কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরই নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা জানান বর্ষীয়ান অভিনেতা। সব শেষে সাজিদের সাবধানবাণী, হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হলে আগে সেই প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসকের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এত কিছুর পরও চিকিৎসকের নাম প্রকাশ করেননি সাজিদ আহমেদ।

ঘটনা হয়তো পাকিস্তানের। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে এই প্রতারণামূলক ব্যবসা নতুন কিছু নয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এই ব্যবসা। ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এই সব টাকে চুল গজানোর চিকিৎসা। টিভি চ্যানেল, পত্র পত্রিকায় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলে বিজ্ঞাপনও দেয় এই সব প্রতিষ্ঠান বা ডাক্তাররা। কিন্তু বিজ্ঞাপনে দাবি করা তথ্য কতটা সত্যি নাকি মিথ্যা, তা যাচাই করার কেউ নেই। ফেঁসে যাওয়ার পর বুঝতে পারেন ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অনলাইনে হেডফোন অর্ডার করে কী পেলেন সোনাক্ষী!

অনলাইন শপিং যুগের আর্শীবাদ। ঘরে বসে স্মার্টফোনে আঙুলের ছোঁয়ায় পছন্দনীয় পণ্য কিনে ...

Skip to toolbar