সর্বশেষ সংবাদ
Home / খেলাধুলা / বিদায়ী ম্যাচে গার্ড অব অনার পেলেন চয়ন

বিদায়ী ম্যাচে গার্ড অব অনার পেলেন চয়ন

খেলা শেষের ভেপু বাজল। স্টিক উঁচিয়ে একদিকে বাংলাদেশ এবং অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা দাঁড়িয়ে গেলেন। মাঝখান দিয়ে প্রবেশ করলেন মামুনুর রহমান চয়ন। দারুণ এক গার্ড অব অনার পেলেন চয়ন। দু’দলের সবার সঙ্গেই হাত মেলালেন। জড়িয়ে ধরলেন সতীর্থদের। কাঁদলেন। বিদায়ী সম্মাননাও পেলেন।

শনিবার জাকার্তার জিবিকে মেইন স্টেডিয়ামের হকি গ্রাউন্ডে ম্যাচ জিতেও উল্লাস করতে দেখা যায়নি কোরিয়াকে। কারণ যাকে তারা বিদায় দিয়েছন, তিনি চারটি এশিয়ান গেমসে খেলা মামুনুর রহমান চয়ন।

আন্তর্জাতিক হকি থেকে বিদায় নিলেন দেশের হকি অঙ্গনের সিনিয়র পেনাল্টি কর্নার (পিসি) স্পেশালিস্ট। তবে ঘরোয়া হকিতে খেলবেন। আন্তর্জাতিক হকি থেকে বিদায়টা অবশ্য সুখকর হল না চয়নের। পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কোরিয়ার কাছে ৭-০ গোলে হেরেছে তার দল বাংলাদেশ। রোববার এশিয়ান গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানে লাল-সবুজের পতাকা বহন করবেন চয়ন এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

এমন হারের পরও ম্যাচ শেষে বাংলাদেশকে করতালিতে ভরিয়েছেন ইন্দোনেশিয়াবাসী। উপলক্ষ একটাই। চয়নের বিদায়। হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তুলে দেয়া হয় স্মারক। চয়নের বিদায় স্মরণীয় করে রাখতে শেষ ম্যাচে লড়াই করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচের ফলই বলছে, অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যরা। তবে পঞ্চম হতে না পারলেও ১৯৭৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো ষষ্ঠ হয়ে সরাসরি এশিয়ান গেমস খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

ইন্দোনেশিয়ায় আসার আগে চার বারের চ্যাম্পিয়ন এ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেই পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিলেন জিমি-চয়নরা। যার একটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল। বাকিগুলোতে হার। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ আর টুর্নামেন্টের মঞ্চ যে এক নয়, তা ভালোভাবেই বুঝলেন গোবিনাথনের শিষ্যরা।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় মিনিটে আক্রমণ করেছিল একটা। সেই প্রথম, সেই শেষ। এরপর একেবারে শেষদিকে আরও একটি আক্রমণ। মাঝের পুরো সময়টা বাংলাদেশকে নিয়ে খেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে ছয়টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও গোল পেয়েছে মাত্র দুটিতে। আরেকটি গোল পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে। বাকি চারটি এসেছে ফিল্ড থেকে।

ম্যাচ শেষে বড় হার নিয়ে বাংলাদেশের কোচ গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির আক্ষেপ, ‘আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম। তবে সবাইকে বুঝতে হবে, এশিয়ান গেমস অলিম্পিকের বাছাই। এখানে সবাই সেরাটাই খেলে। আমরাও চেষ্টা করেছি। এখন প্রস্তুতি ম্যাচ বাড়িয়ে আর খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলনে রেখে চেষ্টা করতে হবে উন্নতির ধারায় থাকার।’

বিদায়ী ম্যাচ শেষে চয়ন বলেন, ‘খারাপ লাগছে। আমি আর বুকে লাল-সবুজের পতাকা বহন করতে পারব না। সতীর্থরা যে সম্মান দিয়েছে তাতে খুশি। আমি তৃপ্ত। হকির কারণেই সব পেয়েছি। অবসরের কথা ভেবে শুক্রবার রাত থেকেই ঘুম আসছিল না। তবুও বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। কোরিয়ার সঙ্গে লক্ষ্য ছিল ভালো কিছু করার।’

বন্ধুদের কথা বলতে গিয়ে চয়ন বলেন, ‘ক্রিকেটার বন্ধু মুশফিকুর রহিম এবং শুটার আবদুল্লাহেল বাকিও আমাকে ফোন করেছিল। তারা আমাকে আগামী দিনগুলোর জন্য শুভ কামনা জানিয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

লিওঁয়ের জালে পিএসজির গোলোৎসব, এমবাপ্পের ১ হালি

আবারও স্বমহিমায় উজ্জ্বল কিলিয়ান এমবাপ্পে। পায়ে ফোটালেন ফুটবলের শৈল্পিক ফুল। দুর্দান্ত ফুটবল ...

Skip to toolbar