সর্বশেষ সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / আসিয়ান এমপিরা বিচারিক প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানালেন

আসিয়ান এমপিরা বিচারিক প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানালেন

মিয়ানমার রোম সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বিতাড়নের অপরাধে তাদের বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রয়েছে বলে নেয়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আঞ্চলিক সংসদ সদস্যরা।

মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য ও এশিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক সংসদ সদস্যদের (এপিএইচআর) সভাপতি চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, ‘এটি একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের অভিযোগের জবাবদিহিতা আদায়ের পদক্ষেপ।’ ইউএনবি।

জাকার্তা থেকে এক বিবৃতিতে সান্তিয়াগো বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্তের ফলে এখন রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করার বিচারিক ক্ষমতা পেল আইসিসি। আমাদের অবশ্যই এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। বৃহস্পতিবার আইসিসির নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের জোর করে বিতারণে

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে তারা। রোম সনদ অনুযায়ী এ বিষয়ে আদালত ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারবে। মিয়ানমার রোম সনদে স্বাক্ষর না করলেও রোহিঙ্গাদের বিতারণে যে অপরাধ হয়েছে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশের ওপর।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার সংসদ সদস্য ও এপিএইচআরের বোর্ড সদস্য ইভা কুসুমা সুন্দরী বলেন, ‘আইসিসির এখন একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মিয়ানমারে দীর্ঘকাল ধরে চলা বৈষম্য ও অবিচারের অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে কয়েক দশক ধরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য এটি নিঃসন্দেহে কিছু আশা সৃষ্টি করবে। রোহিঙ্গা জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের সুপারিশগুলোর দিকে আমরা তাকিয়ে আছি এবং আইসিসির আওতাধীন সব অভিযোগের জন্য দায়ীদের পূর্ণ তদন্ত ও বিচার সম্পর্কে আমরা আশাবাদী।’

গত আগস্টে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গণহত্যার উদ্দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তবে এ রকম অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার। তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পূর্ণ প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়েছে -অ্যামনেস্টি : রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিসি) রয়েছে বলে যে সিদ্ধান্ত এসেছে তাকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, আইসিসির এ সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হেগভিত্তিক আইসিসির তিন বিচারকের প্যানেলের এক লিখিত আদেশে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মধ্যে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে অভিযোগ উঠেছে তার বিচারের এখতিয়ার এ আদালতের রয়েছে। কেন না, এ ঘটনায় সংঘটিত অপরাধ সীমান্ত পেরিয়ে সদস্য দেশ বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়েছে। এ আদেশের ফলে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক এ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আইসিসির কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদার মামলা করার পথ খুলল।

লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে কিনা তা জানতে চেয়ে ফাতোও বেনসুদা এপ্রিলে আবেদন করেছিলেন।

আইসিসির এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী ভয়াবহ জাতিগত নিধন শুরুর পর সাত লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত (মিয়ানমারের বিচার) নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথকে পরিষ্কার করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে যে জবাবদিহি করতে হবে, সে ব্যাপারে একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন আদালত।’

বিরাজ আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ ঘটানো হয়েছে তার একটি হচ্ছে তাদেরকে দেশত্যাগে বাধ্য করা। রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে কিভাবে সেনা অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অনাহারে থাকতে বাধ্য করার পাশাপাশি গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেয়া এবং স্থলমাইন ব্যবহার করা হয়েছে তার ব্যাপক তথ্যপ্রমাণ অ্যামনেস্টি সংগ্রহ করেছে।’

আইসিসির এ সিদ্ধান্তের পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব যে এখনও ফুরিয়ে যায়নি তাও স্মরণ করিয়ে দেন বিরাজ পাটনায়েক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত একে (আইসিসির সিদ্ধান্ত) নতুন পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত মিয়ানমারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আইসিসিকে জানানো, যাতে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কাচিন এবং শান রাজ্যে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে সেসবের অনুসন্ধান করতে পারে।

গত বছরের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে আসছে জাতিসংঘ। এক মাস আগে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন তাদের প্রতিবেদনে বলে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে। এজন্য মিয়ানমারের উচিত সেনাপ্রধান ও পাঁচজন জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অবশেষে মি টু ঝড়ে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন এমজে আকবর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রটে যাওয়া খবর অবশেষে সত্য হল। ৩ দিন আগের ...

Skip to toolbar