সর্বশেষ সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে লেভি পরিশোধের সময় বাড়ল ১৫ দিন

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে লেভি পরিশোধের সময় বাড়ল ১৫ দিন

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের রি-হিয়ারিং প্রোগ্রামের অধীনে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া শেষ করার পর বৈধ হতে ইমিগ্রেশন বিভাগ লেভি পরিশোধের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে।

অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে থাকা বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ করতে ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রি-হায়ারিং প্রকল্প হাতে নেয় দেশটি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়। দফায় দফায় এ প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল।

সর্বশেষ ৩০ জুন এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে অনেক কোম্পানির মালিকপক্ষ শ্রমিকদের লেভি পরিশোধ করতে পারেননি। পরবর্তীতে মালিক পক্ষের অনুরোধে সময় বাড়ানো হয় চলতি মাসের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।

লেভি পরিশোধের সময় বেধে দিলেও ২৪ আগস্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এক নোটিশে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লেভি পরিশোধের সময় বাড়ানো হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর পরে আর সময় বাড়ানো হবে না বলে জানানো হয়।

যারা ৩০ জুনের মধ্যে বৈধ হতে পারেননি তাদের থ্রি-প্লাস ওয়ানের মাধ্যমে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে দেশে ফিরে যেতে। এ সময় বাড়ানো হবে কি-না এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা জানা যায়নি।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ কর্মীই অবৈধ। যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দিতেই রি-হায়ারিং প্রকল্প গ্রহণ করেছিল দেশটির সরকার।

রি-হায়ারিং প্রকল্পে নিবন্ধন শেষ ধাপে অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দেবে বলেও জানিয়েছিল দেশটি। তবে অনেক বাংলাদেশির পাসপোর্ট ও কাগজপত্র না থাকায় তারা এ সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে অবৈধ বিদেশি অভিবাসীদের বৈধতা নিতে আরেকটি সুযোগ দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ সুযোগ কবে নাগাদ আসতে পারে সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।

এদিকে অবৈধ বিদেশি শ্রকিদের দেশ ছাড়া করতে প্রতিদিনই চলছে ধরপাকড় অভিযান। যখনই একটা এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে প্রথমেই বৈধ ও অবৈধ সব বিদেশি শ্রমিককে ধরে এনে খোলা জায়গায় সারি বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে।

রোদ হোক বৃষ্টি তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপর কাগজপত্র পরীক্ষা করে যারা বৈধ তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও বাকিদের লরিতে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ক্যাম্পে। কিন্তু কাগজপত্র ঠিক থাকুক বা না-থাকুক, হেনস্তা হতে হচ্ছে সবাইকে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পে নেয়ার পরও অবৈধ শ্রমিকদের দুর্দশার শেষ হচ্ছে তা মোটেই নয়। ১৪ দিনের মধ্যে আদালতে পেশ করা হলে তাদের যে সাজা হয়, প্রথমে সেই মেয়াদটা জেলে কাটাতে হয়। তারপর যদি তারা দেশে ফেরার টাকা জোগাড় করতে পারেন, তাহলে নিজেকে বিমানের টিকিট কেটে ফেরার ব্যবস্থা করতে হয়।

কিন্তু বাংলাদেশি অনেকেই অভিযোগ করছেন, ৪০০ এর জায়গায় তাদের কাছে ৯০০, হাজার বা তারও বেশি রিঙ্গিত দাবি করা হচ্ছে- যে পরিমাণ অর্থ জোগাড় করার ক্ষমতাই তাদের নেই।

ফলে তারা না-পারছেন মালয়েশিয়া ছেড়ে যেতে, আবার অবৈধ শ্রমিক হিসেবে সে দেশে থেকে গেলেও হেনস্তা হতে হচ্ছে পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগের হাতে। সব মিলিয়ে এক দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন সেখানকার হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক।

প্রতারণা যেন পিছু ছাড়ছে না হতভাগ্য বাংলাদেশিদের

এদিকে প্রতারণা অন্য দিকে হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অভিযোগকারী বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলমগীর। গত ১২ আগস্ট মালয়েশিয়ায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশিরা।

মোহাম্মদ আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জানান, জনপ্রতি মালয়েশিয়ান রিংগিত ৭ হাজার ২০০ থেকে আট হাজার পর্যন্ত অর্থ আদায় করলেও মালয়েশিয়ায় বৈধতা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ২৭০ জন শ্রমিক। ২৭০ শ্রমিকদের কাছ থেকে ১.৮ মিলিয়ন রিংগিত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে মালয়েশিয়ান এজেন্ট।

আলমগীর আরও জানান, বর্তমান অভিবাসন বিভাগের বেঁধে দেয়া সময় ৩০ আগস্টের মধ্যে অবৈধ শ্রমিকদের মালয়েশিয়া থেকে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা বারংবার এজেন্টকে বললেও সে কোনো কর্ণপাত না করে আরও হুমকি দিয়ে বলে চলে যেতে।

এ ব্যাপারে আলমগীর বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এদিকে যেখানে সেখানে গড়ে ওঠা কিছু দালাল অফিস ট্রাভেল পারমিট করে দেয়ার নাম করে শ্রমিকদের হাজার হাজার রিঙ্গিত হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ট্রাভেল পাস পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অবশেষে মি টু ঝড়ে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন এমজে আকবর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রটে যাওয়া খবর অবশেষে সত্য হল। ৩ দিন আগের ...

Skip to toolbar