সর্বশেষ সংবাদ
Home / লাইফস্টাইল / যে রোগে আয় কমে

যে রোগে আয় কমে

মন ছটফট সব সময়। শুচিবাইয়ে অস্থির। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলে ‘অবসেসিভ কম্পালশিভ ডিসঅর্ডার’ বা ওসিডি। যদি কোনও একটি কাজে কেউ দিনে আট ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ব্যয় করে তখন তা চরম পর্যায়ে চলে যায়। বহু মানুষের শুচিবাই এমন স্তরে পৌঁছে যায় যেখান থেকে তিনি প্রবল উদ্বেগ ও অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত অনুযায়ী, ওসিডি খুবই মারাত্মক একটি রোগ এবং পৃথিবীর দশটা রোগের মধ্য এর স্থান তৃতীয়। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে রোজগার করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। ফলে জীবনযাত্রার মানের অবনতি হয়।

ওসিডি-আক্রান্ত রোগী যেসব আচরণ করে থাকেন।

অস্থিরতা

ওসিডি-আক্রান্তের অস্থিরতা নানা রকমের হতে পারে। কখনও তার মনে হয় হাতটা ভাল করে ধোওয়া হল না। কিছুতেই তেল যাচ্ছে না। তখন তিনি বার-বার হাত ধুতেই থাকবেন। বাড়ির কাজের লোক ঘর মোছার পর মনে হবে, মোছাটা ভাল হয়নি। সব দিতে নোংরা রয়ে গিয়েছে। তখন তিনি বার-বার মোছা ঘর মুছতেই থাকবেন।

দরজায় তালা

দরজায় তালা দেওয়ার পরও মনে হয় তালাটা দেওয়া হয়নি। ধূপ নিভিয়ে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর মনে হবে ভাল করে নিভল না। তখন আবার বাড়ি ফিরে এসে পরীক্ষা করে অনেকেই দেখেন তালা দেওয়া হয়েছে কিনা বা ধূপ নেভানো আছে কিনা। সেটা না-করলে তার ভিতরে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়। অবসেশনগুলি রোগীর মাথায় গেঁথে যায়। বার-বার না চাইতেও চিন্তাগুলি এসে যায়। চাইলেও এর বাইরে বেরোতে পারেন না।

এ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত অনুযায়ী, ওসিডি মানুষকে এতটাই যন্ত্রণা দেয় যে, তার ফলে মানুষের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতার জন্ম হয়। ধরা যাক কারও মনে হলো, তার হাতে বা গায়ে ময়লা লেগে আছে। যদিও তিনি ভাল করেই জানেন কোথাও ময়লা নেই, কিন্তু চিন্তাটি বার বার আসতে থাকে এবং তিনি বার বার হাত ধুতে যান। বার বার সাবান ব্যবহার করতে থাকেন। ময়লার ভাবনাটা মনে চিরস্থায়ী ভাবে গেঁথে যাবে। ফলে তার সঙ্গে কেউ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি সে দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন না।

ওসিডির লক্ষণসমূহ

বদ্ধমূল ধারণা

ওসিডি-র ফলে মানুষের মনে এমন এক বদ্ধমূল ধারণার জন্ম হয়, যা তার কাছে শেষ পর্যন্ত অভ্যাসে পরিণত হয়। বাধ্য হয়ে এই সময় মানুষ একটা কাজ বার বার করতে থাকে।

নিয়ন্ত্রণ

রোগী নিজে জানেন যে, হেন আচরণের কোনও অর্থই হয় না, সেটা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং বাড়াবাড়ি। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

ধোয়া-মোছার প্রবণতা

ওসিডি-র লক্ষণগুলি বেশ জটিল এবং এর বহিঃপ্রকাশ এক-এক জনের ক্ষেত্রে এক-এক রকম হয়। সব কিছুর মধ্যেই দূষণের সম্ভাবনা দেখা এবং তা দূর করার জন্য বারবা র ধোয়া-মোছার প্রবণতা ওসিডি-রপূর্বাভাস হিসেবে চিহ্নিত হয়।

সন্দেহ দানা

ওসিডি-র আরেকটি লক্ষণ হল, দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে সন্দেহ দানা বাঁধা, এক কাজ বার বার করা বা তা যথাযথ হয়েছে কি না তা ক্রমাগত পরীক্ষা করা।

শিশু

শিশুদের মধ্যেও ওসিডি-র সমস্যা হতে পারে এবং তার প্রভাব তার যৌবনকাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। ১০০ জন শিশুর মধ্যে ১ জনের মধ্যে ওসিডি-র লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।

নখ কামড়ান

হাত-পায়ে ঘা হয়, ঘুম কমে যায়। অনেকে আবার মাথায় চুল ছেঁড়েন। নখ কামড়ান। চামড়া তোলেন। চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে মাথায় অনেকের টাক পড়ে যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞান জানাচ্ছে, শতকরা ৪৫ থেকে ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রে জিনগত কারণে এই রোগ হয়। পরিবেশগত কারণ তো রয়েছেই। যেমন, এক জন ছোট বেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, বড় হয়ে তিনি সময় ভাবতে থাকেন, কী ভাবে সে শুদ্ধ হবে, সেই পন্থা খুঁজতে গিয়ে তিনি অবসেসিভ কম্পালশন ডিসঅর্ডারের শিকার হয়ে পড়েন।

আধুনিক চিকিৎসায় এ থেকে বের হওয়ার অনেক পন্থা রয়েছে। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি এ ক্ষেত্রে ভাল কাজ দেয়। অনেক ওষুধরও রয়েছে। মস্তিষ্কের যে অংশ রোগীকে একই কাজ বার বার করাচ্ছে ওষুধগুলি সেই অংশে ক্রিয়া করে। রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

রোগ আরও বেড়ে গেলে ইলেকট্রো কনভালসিভ থেরাপি, সার্জিক্যাল থেরাপি দেওয়া হয়। শেষের দুটির জন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। ওষুধে অনেক ক্ষেত্রে রোগী পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়। অন্তত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কখন সন্তানের হাতে মোবাইল দেবেন?

শিশু কাঁদছে। তাকে ভোলাতে তার হাতে তুলে দিচ্ছেন মোবাইল। বাবা-মা জরুরি কাজে ...

Skip to toolbar