সর্বশেষ সংবাদ
Home / লাইফস্টাইল / সাফল্য অর্জনে তরুণদের ধৈর্য ধরতে হবে

সাফল্য অর্জনে তরুণদের ধৈর্য ধরতে হবে

ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞানী হওয়ার, আর বাবা-মা দেখতেন মেয়েকে বানাবেন ডাক্তার, কিন্তু হয়ে গেলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

হোসনে আরা বেগম এনডিসি বর্তমানে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এখন গ্রেড-১ প্রতিষ্ঠান। মাত্র কয়েক বছর আগে দায়িত্ব নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

আগারগাঁওয়ে হাইটেক পার্ক কার্যালয়ে তিনি যুগান্তরের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীদের ধৈর্য অনেক কম। তারা রাতারাতি বড় হতে চায়।

যে কাজটি তারা করবে, আগে ধৈর্য ধরে সেটা ভালোভাবে বুঝে তারপর আত্মনিয়োগ করতে হবে।

কারণ আইটি বিভাগে অনেক কাজের সুযোগ আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারছে না।

সাফল্য অর্জনের পথে কিছু ক্ষতিও থাকতে পারে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তারা বুঝতে পারবে তারা কতটা অর্জন করেছে। শুধু আইটি গ্রাজুয়েট হলেই হবে না, তাদের দক্ষ হতে হবে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে অসামান্য অবদান রাখায় হোসনে আরা বেগম অবসরে যাওয়ার পরেও সরকার পূর্ণ সচিবের পদমর্যাদা দিয়ে পুনরায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে।

এ বিষয়ে হোসনে আরা বেগম যুগান্তরকে বলেন, সরকার আমার কাজের যে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং আমার ওপর আস্থা রেখেছেন এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আমার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে চাই।

হোসনে আরা বেগম ১৯৫৮ সালের ২৬ মার্চ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। দাদাবাড়ি পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ বোথলা গ্রামে।

তার বাবা মরহুম মোহাম্মদ আবদুল জব্বার ছিলেন সুগার মিলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মা মাহমুদা বেগম গৃহিণী।

আবদুল জব্বার ও মাহমুদা বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ১৯৭৩ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন এবং সরকারি বদরুন্নেছা কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ৩ এপ্রিল ফরিদপুর সদরে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ৭৫০ টাকা বেতনে প্রথম কর্মজীবনে শুরু করেন।

এ সময় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো যে ৪০ জন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পান, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন হোসনে আরা বেগম।

স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে হোসনে আরা বেগমের সুখের সংসার। স্বামী জাহিদুল ইসলাম রিয়েল এস্টেট ও শেয়ার ব্যবসা করেন।

বড় মেয়ে হোমায়রা ইসলাম অমি ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে মার্স সলিউশন নামের একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত।

ছেলে তানভীর তাবাসসুম অভি জার্মানিতে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে এয়ারবাস নামক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

১৯৯৬ সালে হোসনে আরা বেগম উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে চলে যান নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে ফিরে ১৯৯৯ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি থেকে ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।

হোসনে আরা বেগম ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তিনি বলেন, প্রথম থেকেই হাইটেক পার্ক তৈরির দায়িত্ব ছিল, সরকার আমার ওপর আস্থা রেখে পুনরায় সচিব পদে নিয়োগ দেয়ার পর সেসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে।

তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই মাত্র দুই বছরের মধ্যে যশোরে দৃষ্টিনন্দন ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’-এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

হোসনে আরা বেগমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নির্মিতব্য ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি’তে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেলে দু’জন ডেভেলপারের মাধ্যমে তিনটি ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

হোসনে আরা বেগম বলেন, আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে দেশের সাতটি স্থানে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে।

তরুণ-তরুণীদের সি পাওয়ার ট্রেনিং, হাইটেক পার্ক ট্রেনিং, লার্নিং আরনিং ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও দেশের ১২টি জেলায় আইটি পার্ক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই পার্কগুলোতে মোট ৬০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জ্বর হলে কী ওষুধ খাবেন?

ঋতু পরিবর্তনের ফলে ঠাণ্ডা-জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। হুটহাট করে ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে ...

Skip to toolbar