সর্বশেষ সংবাদ
Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / তৈরি পোশাক খাতে সুখবর নেই

তৈরি পোশাক খাতে সুখবর নেই

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ব্যবসাবান্ধব করতে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিল্প খাতে নানা কর ছাড় ও প্রণোদনা দিয়েছে।

স্থানীয় শিল্প যেমন ওষুধ, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় ও দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষায় সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেছে।

৭ জুন বাজেট ঘোষণার পর ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবর্তন আনেন অর্থমন্ত্রী। অথচ কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত তৈরি পোশাক খাতের জন্য বাজেটে কোনো সুখবর নেই।

কর্পোরেট ট্যাক্স ও রফতানিতে উৎসে কর না কমানোয় হতাশ তৈরি পোশাক মালিকরা। এ দুটি কর না কমানোয় তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগী সক্ষমতা আরও কমবে এবং পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আসবে না বলে মনে করছেন তারা।

এ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দেন-দরবারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বাজেটে পোশাক খাত কী পেল- এ বিষয় জানতে একাধিক তৈরি পোশাক মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ হতাশার কথা জানিয়েছেন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাকের সাধারণ কারখানার করহার ১৫ শতাংশ ও পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে গত বছর একক আয়কার হার ছিল ১২ শতাংশ।

একইসঙ্গে সবুজ কারখানার কর হারও বাড়ানো হয়েছে। আগে সবুজ কারখানাগুলো ১০ শতাংশ কর দিত, এবারের বাজেটে তা ১২ শতাংশ করা হয়েছে। এ কারণে তৈরি পোশাক মালিকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করবে।

অন্যদিকে বাজেটে পদক্ষেপ না নেয়ায় তৈরি পোশাক রফতানির উৎসে করও বেড়েছে। কারণ আয়কর অধ্যাদেশে রফতানির বিপরীতে ১ শতাংশ উৎসে কর আরোপিত আছে।

প্রতিবছর বাজেটের সময় ও পরে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটিকে বিভিন্ন হারে নির্ধারণ করা হয়। যেমন ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎসে কর ছিল দশমিক ৭০ শতাংশ।

নতুন প্রজ্ঞাপন জারি না করায় ১ জুলাই থেকে রফতানির বিপরীতে ১ শতাংশ উৎসে কর দিতে হবে পোশাক মালিকদের। অর্থাৎ ১০০ টাকা রফতানির বিপরীতে ৩০ পয়সা বেশি কর দিতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক তৈরি পোশাক কারখানা মালিক যুগান্তরকে বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ওষুধ, মোবাইল উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগকারীদের দুই হাত ভরে দিয়েছে সরকার। ব্যতিক্রম শুধু তৈরি পোশাক খাত।

বিপুল কর্মসংস্থান জড়িত এ খাতের জন্য বাজেটে কিছুই রাখা হয়নি। এ মুহূর্তে একদিকে প্রতিযোগী সক্ষমতা কমছে অন্যদিকে কারখানা সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় কর্পোরেট ট্যাক্স ও রফতানি উৎসে কর বাড়ানো হয়েছে। এতে তৈরি পোশাক খাত আরও বেশি প্রতিযোগিতায় পড়বে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দিক-নির্দেশনা দেবেন বলে আশা ছিল। কিন্তু সেটা না হওয়ায় এখন মালিকরা হতাশ।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত বছরও বাজেট পাসের পর উৎসে কর নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তা কমানো হয়েছিল।

এবারও কর্পোরেট ট্যাক্স ও উৎসে কর নিয়ে আলোচনা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তৈরি পোশাক মালিকদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৫০০ সিসির মোটরসাইকেল রফতানি করবে রানার

উচ্চমানের শৌখিন মোটরসাইকেল রফতানি করতে যাচ্ছে রানার অটোমোবাইলস। নেপালের পর এবার প্রতিষ্ঠানটির ...

Skip to toolbar