সর্বশেষ সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / ফিলিপাইনে ধেয়ে আসছে ইতিহাসের ভয়াবহ টাইফুন

ফিলিপাইনে ধেয়ে আসছে ইতিহাসের ভয়াবহ টাইফুন

পাঁচ মাত্রার শক্তিশালী রূপ নিয়ে ফিলিপাইনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ইতিহাসের ভয়াবহ টাইফুন মাংখুট। শনিবার এটি লুজন দ্বীপে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আগাম সতর্কতায় দেশটির তিন অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা ঘর ছেড়েছেন। বিপদ মোকাবেলায় সেনা সদস্যদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এদিকে, কয়েক দিন ধরে চার মাত্রার শক্তি সঞ্চার করছিল হ্যারিকেন ফ্লোরেন্স। বাতাসের বেগ কমে বৃহস্পতিবার রাতে ১ মাত্রার শক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা ও ভার্জিনিয়া রাজ্যে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। তিন রাজ্যের উপকূলবর্তী ১৭ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

ফিলিপাইনে টাইফুনের সতর্কতা হিসেবে শনিবার দেশটির সব অফিস-আদালত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মাংখুটের প্রভাবে লুজন দ্বীপে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কৃষকরা ঝড় আসার আগে তাদের জমির আধা-পাকা ধান ঘরে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।

তারা বলছেন, ‘জমির সব ধান পাকতে এখনও কয়েক দিন সময় প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ঝড়ের কারণে আমরা এখনই এগুলো কাটতে বাধ্য হচ্ছি। নতুবা আমাদের সবই হারাতে হবে।’ দেশটির ৩৯টি প্রদেশে টাইফুনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বিমানের ফ্লাইট। সমুদ্রযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মাংখুট ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস। ঘণ্টায় ২৫৫ কিলোমিটার (১৬০ মাইল) বাতাসের গতি নিয়ে সমুদ্র থেকে উপকূলের দিকে উঠে আসছে।

এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি পাঁচ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী রূপ নিয়ে নর্দান মেরিয়ানা আইল্যান্ড ও গুয়ামে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় ২৩ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ঝড়ের প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা হওয়ার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ফিলিপিন্সের ইতিহাসে ২০১৩ সালে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছিল। সেবার সাত হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েক লাখ ভবন। বাস্তুচ্যুত হয় ৫ লাখের বেশি মানুষ।

এদিকে হ্যারিকেন ফ্লোরেন্সের প্রভাবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বহু এলাকায় দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর। হ্যারিকেনটির মাত্রা ১ হলেও ‘জীবন-সংহারী’ এ ঝড় নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনা এবং ভার্জিনিয়াকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনায় আছড়ে পড়ার পর ঝড়টি ঘণ্টায় দেড়শ’ কিলোমিটার বেগে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

হ্যারিকেনের কবলে এরই মধ্যে এক লাখেরও বেশি বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে ‘ভয়াবহ’ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে বলেও অনুমান জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন ছবিতে আশ্রয় কেন্দ্রের বারান্দায় কম্বল, বাতাসে ফুলানো যায় এমন ম্যাট্রেস ও বিছানা নিয়ে মানুষজনকে ভিড় করতে দেখা গেছে। নর্থ ক্যারোলিনার কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টায় এক ফুটের মতো বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের তীব্রতাও বাড়ছে।

ঘূর্ণিঝড়টির আওতায় থাকা এলাকাগুলোর নদী ও এর আশপাশ এবং নিচু এলাকার লোকজনের ঝুঁকিই এখন সবচেয়ে বেশি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রশাসক ব্রুক লং। ঝড়ের কারণে শনিবার পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন আবহাওয়া অধিদফতর। কিছু কিছু এলাকার নদীর পানির উচ্চতা ৪ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অবশেষে মি টু ঝড়ে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন এমজে আকবর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রটে যাওয়া খবর অবশেষে সত্য হল। ৩ দিন আগের ...

Skip to toolbar