সর্বশেষ সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / মালদ্বীপে ভোট চুরির সব আয়োজন শেষ
Prime Minister Narendra Modi Shake hand with Malidives President Abdulla Yameen Abdul Gayoom during his meeting at Hyderabad New Delhi. Express photo by Renuka Puri.

মালদ্বীপে ভোট চুরির সব আয়োজন শেষ

মালদ্বীপের জাতীয় নির্বাচনে ভোট চুরির বহুমুখী আয়োজন সাজিয়ে রেখেছে ক্ষমতাসীন সরকার। ফের ক্ষমতায় বসার এ অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের আর বেশি বাকি নেই। কিন্তু ভোটার সংখ্যা প্রকাশের কোনো তোড়জোড় নেই ইসির।

জাতীয় পরিচয়পত্রে (আইডি কার্ড) কোনো ক্রমিক নম্বর নেই। ভোটার লিস্টে নেই ভোটারের ছবি। ফলে ভোটারদের আইডি কার্ড কিনছেন ক্ষমতাসীন প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেতারা।

বিরোধী দলের তোলা এমন নানা অভিযোগের মধ্যে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মালদ্বীপের জাতীয় নির্বাচন। খবর মালদ্বীপ ইন্ডিপেনডেন্টের। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না বলে জনগণকে আগেই সতর্ক করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা।

পাশাপাশি প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত আছে বলেও দাবি করেছে বিরোধী দল। দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের মালদ্বীভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) নেতৃত্বে গঠিত বিরোধী জোটের নেতৃত্বে আছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতা ইব্রাহিম মোহাম্মদ সালিহ।

এমডিপির অভিযোগ, মালদ্বীপের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে জিতিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করছে ইসি। এজন্য ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে গড়িমসি করছে। যদিও ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

নির্বাচনে কারচুপির পেছনে নানা কারণ তুলে ধরেছে বিরোধী দল এমডিপি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আশঙ্কার যে, জাতীয় পরিচয়পত্রে ক্রমিক নম্বর নেই। ভোটার লিস্টে নেই ভোটারের ছবি।

ফলে আইডি কার্ড বিক্রি করছেন অনেক অসাধু ভোটার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইডি কার্ডের বিনিময়ে অর্থমূল্যও উল্লেখ করে দেয়া হচ্ছে। এসব সুযোগ গ্রহণ করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। মালদ্বীপের অনলাইন পত্রিকা অ্যাভাসে এক বেনামি সূত্র কয়েকবার তার আইডি কার্ড বিক্রির কথা বলেছেন।

এজন্য তিনি ৬ থেকে ১৫ হাজার রুপি দাবি করেন। তবে ইসি কর্মকর্তা আহমেদ আকরাম এ ধরনের অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন।

বিরোধী দলের আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা হালনাগাদের ক্ষেত্রেও সরকার কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও প্রেসিডেন্ট দফতর থেকে ফরম বিতরণ করেছে সরকার। ফার্স্ট লেডি ফাতিমাত ইব্রাহিমের একটি ভিডিওবার্তা সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে।

তাতে দেখা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রেসিডেন্ট দফতর থেকে ভোটার নিবন্ধন ফরম গ্রহণের কথা বলছেন তিনি। এমডিপি বলছে, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দেশের তরুণ ভোটারদের দুটি করে ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন। একটি নিজস্ব দ্বীপ এলাকায়, অন্যটি রাজধানী মালে।

এছাড়া বিরোধী দল সমর্থিত টিভি-পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করছে সরকার। এমডিপি সমর্থিত রাজজে টিভির ওপর ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার জরিমানা আরোপ করেছে ইয়ামিন সরকার। বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা পারমিটও দেয়া হচ্ছে না।

চলতি বছরের প্রায় প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি রেখেছেন। মালদ্বীপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ২০১২ সালে পুলিশ বিদ্রোহে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ক্ষমতায় বসেন ইয়ামিন।

কিন্তু বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর হয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে চার লাখ জনসংখ্যার এ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হলে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়।

মোহাম্মদ নাশিদসহ নয়জন বিরোধীদলীয় নেতাকে দেয়া সাজার আদেশ সুপ্রিমকোর্ট বাতিল ঘোষণা দেয়ার পর তা ঠেকাতেই ইয়ামিন জরুরি অবস্থা জারি করেন। নাশিদ বর্তমানে শ্রীলংকায় অবস্থান করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অবশেষে মি টু ঝড়ে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন এমজে আকবর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রটে যাওয়া খবর অবশেষে সত্য হল। ৩ দিন আগের ...

Skip to toolbar