সর্বশেষ সংবাদ
Home / লাইফস্টাইল / জীবন ডিজিটাল ফ্রেমের জন্য নয় : লরেন্স

জীবন ডিজিটাল ফ্রেমের জন্য নয় : লরেন্স

বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ভক্তের কাছে সুপরিচিতি ‘লরেন্স’ নামে। পুরো নাম জেনিফার লরেন্স। আদুরে ডাকনাম জেলো। জন্ম ১৫ আগস্ট। বয়স এখন ২৮ পেরিয়ে। এরই মধ্যে রেকর্ড গড়েছেন, রেকর্ড ভেঙেছেন। জিতেছেন অস্কার।

তাও আবার একবার নয়, দুই দু’বার। জায়গা করেছেন ‘গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড’-এ। হলিউড অভিনয়ে সবচেয়ে কনিষ্ঠ হিসেবে গিনেজ বুকে উঠেছেন মাত্র ২৩ বছরে। বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস সূত্র বলছে, বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনয় শিল্পীর মধ্যে তিনি একজন। নতুন বিশ্বরেকর্ড তাই এখনও লরেন্সই ধরে রেখেছেন।

নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সদ্য প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। বলেছেন নানি ক্যারোলিন কোচই তার প্রেরণার উৎস। সৌন্দর্যের যতটুকু চর্চা তিনি শিখেছেন তাতে নানিরই অবদান সবচেয়ে বেশি।

নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নানির অনেক কৌশলই রপ্ত করে তা প্রতিদিন মেনে চলেছেন লরেন্স। বয়োজ্যেষ্ঠদের তিনি দারুণ সম্মান করেন। তাদের কথা অমূল্য এমনটাই তিনি বিশ্বাস করেন। তাই নিজের ক্যারিয়ারের পেছনে নানির অবদানের কথা অকুণ্ঠ আর কৃতজ্ঞ চিত্রেই বললেন গণমাধ্যমে। দ্বিতীয় অস্কার জয়ের পর এবারে তার অন্যরকম স্বীকারোক্তি।

খুব কম সময়ে হলিউডে সেরা অভিনেত্রীর খেতাব জিতে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত রেকর্ড গড়েছেন অস্কারজয়ী লরেন্স। এ সাফল্যের দাবিদার লরেন্স অভিনীত বিখ্যাত ছবি ‘হাঙ্গার গেমস’। লরেন্স অভিনীত ‘হাঙ্গার গেমস’ ও এর সিক্যুয়াল ‘ক্যাচিং ফায়ার’ বিশ্বজুড়ে ৯০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি ব্যবসা করে।

‘উইন্টারস বন’ ছবির মধ্য দিয়ে ২০১০ সালে হলিউডে নায়িকা হিসেবে লরেন্সের জয়যাত্রা। এ ছাড়াও ব্যবসাসফল ছবির ঝুলিতে আছে হাঙ্গার গেমস ও ক্যাচিং ফায়ার, এক্স ম্যান ও এক্স ম্যানের সিক্যুয়াল ডেইস অব ফিউচার পাস্ট এবং আমেরিকান হেসেলের মতো বেশ কিছু ছবি।

তবে ২০১৩ সালে ‘সিলভার লিনিংস প্লেবুক’ ছবির জন্য সবচেয়ে কম বয়সের অভিনেত্রী হিসেবে জয় করেন অস্কার। সময়ের আলোচিত ‘সেরেনা’ ছবিতে ব্র্যাডলি কুপারের বিপরীতে নিজের অভিনয়ের সুদক্ষতা প্রমাণ করেন।

সুজান কলিন্সের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ কিশোরী ক্যাটনিস এভারডিনের জীবন সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে নির্মিত। ক্যাটনিস চরিত্রে কিশোরী হয়েও অভিনয়ের প্রতিভা ছড়িয়েছেন। মূলত এ ছবির জন্যই ২০১৩ সালে ২২ বছর ১৯৩ দিন বয়সে হলিউডের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জয়ে তাক লাগান বিশ্বকে।

এর আগে ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উইন্টার’স বোন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় লরেন্সের অভিষেক হয়। রাসেল ও ডেভিড পরিচালিত ‘সিলভার লাইনিংস’ প্লেবুক চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৩ সালে জেনিফার লরেন্স অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড পান।

হলিউডের তরুণ এ অভিনেত্রীকে রাগ, কান্না আর ক্ষোভ প্রকাশ করতে কমই দেখা যায়। লরেন্স বলেন, রাগ আর কান্না সম্পর্কে কথা বলতে ভালো লাগে না। এসব একান্তই ব্যক্তি অনুভূতি। তাই ব্যক্তি বিষয় ব্যক্তিগতই থাকা ভালো।

বিশ্বের তরুণ বিনোদনপ্রেমীদের কাছে লরেন্স শুধু একটি চরিত্র নয়, বরং সরব উপস্থিতি। বাস্তব কণ্ঠস্বর। ভবিষ্যতের এক সুদর্শন নারী চরিত্র। সায়েন্স ফিকশন চরিত্রে অভিনয়ের দক্ষতায় অনেকের কাছেই লরেন্স স্বপ্নকন্যা।

সারা জীবনভর অভিনয়ের পরেও অনেকের কপালেই অস্কার ধরা দেয় না। জীবনে সবে পা বাড়িয়েই দু’বার অস্কারের মতো বিখ্যাত স্বীকৃতি লরেন্সকে তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

লরেন্স ব্যক্তিজীবনে দারুণ মিশুক। আয়ের শীর্ষে থেকেও অহঙ্কার নেই বললেই চলে। এত অল্প বয়সে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে নিজেকে সামলে নেয়ার কৌশলটা তার ভালোই রপ্ত। তবে ছাড় পাননি সময়ের সমালোচনা আর খ্যাতির বিড়ম্বনায়।

নিজেকে নিয়ে খোলামেলা আলাপে বলেন, সময়ের বিতর্কিত বিষয়গুলো আমার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলবে কি না তা আমি জানি না। তবে আমি শঙ্কিত এ ধরনের ঘটনায়। রঙিন পর্দার পেশাজীবী হলেও আমি একজন মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ। একজন অভিনেত্রী।

এজন্য অনেক কিছুই সামলে নিয়ে এগোতে হয়। ব্যক্তিজীবনে আমার পছন্দই চূড়ান্ত। তাই আমার পছন্দের বিপরীতে কিছু হোক, তা আমি কখনই চাই না। এমন কিছু সত্যিই বিরক্তিকর। আমরা সবাই স্বাধীন। আর স্বাধীন বিশ্বে বসবাস করি।

সবে তারুণ্যে পা রেখেই পেয়েছেন সম্মান, অর্থ, বিশ্বজোড়া খ্যাতি আর দুটো অস্কার। তাই সামনের সময়ে গুছিয়ে এগোতে লরেন্স এখন বেশ উদ্যমী। কেননা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের কাছে তিনি হয়ে উঠতে চান আদর্শ, সফল আর তারুণ্যের সরব প্রতীক। সমালোচনাকে সামলে নিয়ে এগিয়ে যেতে শিখেছেন।

অনবদ্য অভিনয়ের সঙ্গে শিক্ষাজীবনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন। তরুণদের দারুণভাবে উৎসাহিত করার কৌশলটা ভালোই জানেন। এজন্য লরেন্স তরুণদের ক্যারিয়ার গড়তে পরামর্শ দেন। অতি আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি চর্চায় তরুণদের আরও সচেতন হতে বলেন। ব্যক্তিজীবনের সব কিছুকেই ডিজিটাল ফ্রেমে উপস্থাপন না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রূপচর্চায় আমলকী

আমলকী আমরা কাঁচা ও শুকনা দুভাবেই ব্যবহার করতে পারি। বাজারে এখন প্রচুর ...

Skip to toolbar