সর্বশেষ সংবাদ
Home / বিনোদন / এমনও সময় গেছে পকেটে খরচের টাকা ছিল না : মাহফুজ

এমনও সময় গেছে পকেটে খরচের টাকা ছিল না : মাহফুজ

নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় যে কজন অভিনেতা রয়েছেন তার মধ্যে মাহফুজ আহমেদ অন্যতম। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক নির্মাণও করেছেন তিনি। সম্প্রতি ‘তোমারই প্রেমে প্রতিদিন’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে।

অভিনয়ে অনিয়মিত হওয়ার কারণ ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে তারাঝিলমিলের মুখোমুখি হন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এইচ সাইদুল

যুগান্তর: অভিনয় আপনার কাছে আসলে কী?

মাহফুজ: আনন্দ! আমার কাছে অভিনয়ের মানেই হচ্ছে আনন্দ। একজন মালি যেমন ফুল চাষ করে আনন্দ পান, ঠিক আমিও অভিনয় করে আনন্দ পাই।

যুগান্তর: আপনার কর্মজীবনের শুরু ছিল সাংবাদিকতা দিয়ে, অভিনয়ে কীভাবে এলেন?

মাহফুজ: সাংবাদিকতা দিয়েই আমি কর্মজীবন শুরু করি। বিনোদন সাংবাদিকতা করতাম। একদিন শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার আমাকে অভিনয় করতে বলেন। একটা সময় অভিনয় ভালো লেগে যায়। অভিনয় করছি, কতটা করতে পারছি দর্শকই তা ভালো জানেন। তবে এখনও আমি শিখছি।

যুগান্তর: বেশ কিছু দিন ধরে অভিনয় ও পরিচালনায় আপনাকে অনিয়মিত দেখা গেছে। কারণ কী?

মাহফুজ: আমি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অভিনয় করেছি। নাটক নির্মাণও করেছি। মনে হচ্ছে ক্লান্ত হয়ে গেছি। অভিনয় নিয়ে পরিকল্পনারও শেষ নেই। একটি চরিত্র নতুন ও মৌলিকভাবে বানাতে অনেক সময় লাগে। শুধু ক্যামেরার সামনে এলে তো হবে না, দর্শকের চাহিদার বিষয়টা আগে মাথায় রাখতে হবে। তবে ক্লান্তি কেটে গেলে আবারও অভিনয়ে নিয়মিত হব।

যুগান্তর: নব্বই দশকের তুখোড় অভিনয় শিল্পীরা অনেকটাই অনিয়মিত। এর কারণ কী হতে পারে?

মাহফুজ: যে পেশার মানুষই হোক না কেন, মানুষ একটু অবসর চায়। এটাই স্বাভাবিক। অনেকেই আছেন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন। আবার অনেকেই তা পারেন না। আরেকটা কথা হচ্ছে, অভিনয়ে সক্রিয় থাকার মানে এই নয় যে, ৩০ দিনই শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। আর এটাও সত্য, আমরা যারা একসঙ্গে শুরু করেছিলাম তাদের অনেকেই এখন অন্যান্য পেশা কিংবা অন্য কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউ আবার যথারীতি অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

যুগান্তর: বর্তমানে যে ধরনের নাটক নির্মিত হচ্ছে এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?

মাহফুজ: আসলে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে নাটক হচ্ছে। একেবারই খারাপ বলা যাবে না। তবে নাটকের গল্পের দিকে সবার নজর দিতে হবে। গল্পের সঙ্গে বাজেট এবং দক্ষ নির্মাতারও প্রয়োজন। একজন দক্ষ পরিচালক কিন্তু একটি দুর্বল গল্পকে পরিপক্ব করতে পারেন। সব মিলিয়ে সবাইকে আরও যত্নবান হতে হবে।

যুগান্তর: সিনেমা ও গানের সঙ্গে এখন নাটকেও অশ্লীলতা লক্ষণীয়। এ বিষয়টি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন?

মাহফুজ: আসলে সার্বিকভাবে আমাদের নাট্যাঙ্গনে একটি পরিবর্তন এসেছে। ধরন এবং প্রচার মাধ্যমেও পরিবর্তন এসেছে। ভালো নাটক হচ্ছে। যেখানে ভালো সেখানে খারাপও থাকে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দু-একটা খারাপ দিয়ে তো পুরো অঙ্গনকে বিচার করা ঠিক হবে না।

যুগান্তর: অনেক নির্মাতাই বলেন তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে নাটক নির্মাণ করেন। কিন্তু তরুণরা যা চায় সবই কি নাটকে ফুটিয়ে তোলা উচিত?

মাহফুজ: সব নির্মাতা তো এ মতে বিশ্বাসী হবে না। এখনও প্রচুর ভালো নাটক হচ্ছে। নাটক দেখে বিশ্লেষণ করতে হবে। ইউটিউবে একটি ভালো নাটক খুঁজলে সঙ্গে খারাপ কিছুর ভিডিও দেখা যায়। অনেক সময় নাম কিংবা ছবিও ব্যবহার করা হয়। আর খারাপটাও কম তাও নয়। সে দিক দিয়ে পরিচালকদের নিজস্ব সেন্সর থাকা দরকার। নাটক কিন্তু দর্শকদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

যুগান্তর: এখন তো আগের মতো কোনো চরিত্র স্থায়ী হচ্ছে না। তার কারণ কী?

মাহফুজ: গল্প যদি ঠিক থাকে তবে সেখান থেকে যে কোনো চরিত্রই একজন পরিচালক বানাতে পারেন। আমাদের দেশে আগের মতো গল্পকার, কাহিনীকার নেই। আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি নাটক নির্মিত হচ্ছে, কিন্তু নাটকের মানের কথা নির্মাতারা এখন আর বিবেচনা করেন না। এটা একটা কারণ।

আর আমাদের দেশে চ্যানেলের আধিক্য রয়েছে। তার ওপর নাটকের বহুগুণ বৃদ্ধি। কোনটি রেখে কোনটি দেখবেন? এই নিয়ে দর্শকও ধাঁধায় পড়ে যান। এটাও একটা কারণ।

যুগান্তর: তাহলে কী নাটকের সংখ্যা কমাতে হবে?

মাহফুজ: বিষয়টি ঠিক তা নয়। বছরে কম নাটক হোক কিন্তু যে নাটক হবে সেটাতে যেন মৌলিকতা থাকে। এক নাটকের রেশ যেন পরের নাটকে না থাকে। দর্শক এখন খুব চালাক। তাদের ফাঁকি দেয়া যাবে না। মৌলিক নাটক থেকে বঞ্চিতও করা যাবে না।

যুগান্তর: সে ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

মাহফুজ: গল্পের দিকে নজর দিতে হবে, নাটকের বাজেটও বাড়াতে হবে। সঙ্গে শিল্পী কলাকুশলীদের আরও যত্নবান হতে হবে। সবাই যত্নসহকারে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে নাটকের সেই গৌরবময় দিন আবারও ফিরে আসবে।

যুগান্তর: সবাই এখন ইউটিউবনির্ভর হয়ে যাচ্ছেন, বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

মাহফুজ: একটা সময় মানুষ সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখত। পরে টেলিভিশন এলো, এখন ইউটিউব। দর্শক যেখানে ভালো পাবেন সেখানেই দেখবেন। সবাই তো যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। নাট্যাঙ্গন কেন নয়? আর ইউটিউবনির্ভরতা ভালো একটি মাধ্যম। নিজের ইচ্ছা মতো যখন তখন নাটক, সিনেমা গান দেখা যায়।

যুগান্তর: আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের নাট্যাঙ্গনের কিছু দুর্বল বিষয়ের কথা বলুন?

মাহফুজ: অনেক দুর্বল বিষয়ের কথা বলা যাবে। বিষয়গুলো আমার চোখে যেমন ধরা পড়ে তেমন প্রায় সব পরিচালকই জানেন। কিন্তু এতে কী লাভ? একটা বিষয় বলতে চাই, আমাদের দেশে এখন গল্পকারের অভাব রয়েছে। আড়ালে দক্ষ গল্পকার থাকলেও তাদের কাজে লাগাতে হবে। বাজেটও একটি মুখ্য বিষয়। সেদিকেও নজর দিতে হবে।

যুগান্তর: এমন কোনো স্মৃতি যা মনে পড়লে এখনও রোমাঞ্চিত হন?

মাহফুজ: বিয়ের দিন। আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা প্রথম দিনটির কথা মনে পড়লে আজও রোমাঞ্চিত হই।

যুগান্তর: ব্যক্তি জীবনের শুরুতে অনেক কষ্টে দিনযাপন করেছেন। সেই দিনগুলো কী এখনও মনে পড়ে?

মাহফুজ: সেটা কখনও ভোলা যাবে না। জীবন তো আর সহজ কোনো বিষয় নয়। টিউশনি করে পকেট খরচ জুগিয়েছি। এমন অনেক সময় গেছে, পকেটে টাকা ছিল না। লক্ষ্য ঠিক ছিল বলে আজ এই অবস্থায় আসতে পেরেছি।

যুগান্তর: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মাহফুজ: আমি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করি না। পরিকল্পনা করলাম কিন্তু কাল থাকব না, তাহলে কী হবে? তবে যে কাজই করি, যেন ভালোভাবে করতে পারি এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর: নতুনদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

মাহফুজ: ‘অভিনয় করে তারকা হব’ এমন চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অভিনয়কে ভালোবাসতে হবে। অভিনয় ভালো করলে দর্শকরা অবশ্যই অভিনেতা-অভিনেত্রীকে মনে রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সাংবাদিক পরীমণির প্রথম চমক

ঢাকাই ছবির এই সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি এখন সাংবাদিক। তা জানে অনেকেই। ...

Skip to toolbar