সর্বশেষ সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / গোপনে জীবাণু অস্ত্র কারখানা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গোপনে জীবাণু অস্ত্র কারখানা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরাক, সিরিয়া, উত্তর কোরিয়া বা বিশ্বের কোনো দেশে রাসায়নিক অস্ত্র বা জীবাণু অস্ত্রের ব্যবহার হলে সবার আগে রুখে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। অথচ সেই যুক্তরাষ্ট্রই নাকি জীবাণু অস্ত্র তৈরি করে।

সেই সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে এর পরীক্ষাও চালায়। বিশ্ব মোড়ল এই রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই এ অভিযোগ ছিল। এবার সেই একই অভিযোগ এলো রাশিয়ার পক্ষ থেকে। দেশটির অভিযোগ, জর্জিয়ায় রুশ সীমান্তের কাছেই অতি গোপনে একটি জীবাণু অস্ত্রের কারখানা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেই অস্ত্রের পরীক্ষাও চালানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। এই অপতৎপরতা আন্তর্জাতিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে রাশিয়ার জীবন। আর বরাবরের মতো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার মার্কিন দৈনিক মিলিটারি টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

রুশ সেনাবাহিনীর বিশেষ বিভাগ বিকরণ, জৈব ও রাসায়নিক সুরক্ষা সেনা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল ইগর কিরলভ বৃহস্পতিবার নতুন করে এ অভিযোগ তোলেন। মস্কোয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে দেয়া ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে এ ধরনের কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।

তিনি নিশ্চিত করে বলেন, জর্জিয়ার অ্যালেক্সেইয়েভকা উপশহরের একটি পাবলিক হেলথ রিসার্চ সেন্টারে রাসায়নিক অস্ত্রের একটি গোপন ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ল্যাবটিতে যে জৈব অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এ ব্যাপারে রাশিয়ার হাতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে জানান কিরিলভ।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হালকা ক্ষমতাসম্পন্ন বিষাক্ত ক্যাপসুল তৈরির চেষ্টা করছে। এগুলোর ধ্বংস ক্ষমতা কম হলেও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে ঘায়েল করা সম্ভব। রাশিয়ার পাশাপাশি চীন সীমান্তেও যুক্তরাষ্ট্র নিষিদ্ধ অস্ত্রের বেশ কয়েকটি গবেষণাগার স্থাপন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে মস্কোর এ অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছে পেন্টাগন। বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার সন্ত্রাসবাদ থেকে বিশ্বের নজর ঘোরাতেই মস্কোর এ অপকৌশল বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র এরিক আহন।

জৈব অস্ত্র হচ্ছে জৈব উপাদান থেকে তৈরি জীবাণু। এই জীবাণু প্রয়োগের মাধ্যমে জীবজন্তু এবং উদ্ভিদকে রোগাক্রান্ত করে তোলে। এটা এমন এক অস্ত্র যার মাধ্যমে মহামারী সৃষ্টিতে সক্ষম কোনো জীবাণুকে বিশেষ উদ্দেশ্যে একটা নির্দিষ্ট এলাকায় সবার অজ্ঞাতে ছড়িয়ে দেয়া হয় এবং ওই এলাকার মানুষ এই রোগ প্রতিরোধে অক্ষম।

পারমাণবিক বোমা তৈরি ও এর নিক্ষেপ এসব অত্যন্ত দৃশ্যমান বিষয় এবং শত্রুরা সহজেই জেনে যেতে পারে। তবে জৈব অস্ত্র দিয়ে শত্রু দেশের যেকোনো জায়গায় রেখে এলেই হবে। ফিরে আসতে আসতেই ছড়িয়ে পড়বে সবখানে। কিন্তু কে এর সঙ্গে যুক্ত তার কোনো প্রমাণ সহজেই পাওয়া যাবে না।

পৃথিবীতে এখন প্রায় ১২০০ রকমের জৈব অস্ত্রে ব্যবহারযোগ্য জীবাণু আছে। জৈব অস্ত্র হতে হলে একটা অণুজীবের অবশ্যই উচ্চ সংক্রমণ করার ক্ষমতা, রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা, ওই রোগের প্রতিষেধকের অপ্রতুলতা এবং সহজে পরিবহন করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব ছাড়পত্র পাবে না: নিক্কি হ্যালি

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব ছাড়পত্র পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ...

Skip to toolbar