সর্বশেষ সংবাদ
Home / বিনোদন / চলছে নতুন শিল্পী তৈরির তোড়জোড়

চলছে নতুন শিল্পী তৈরির তোড়জোড়

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অবস্থা এখন বেশ নাজুক। ছবি তৈরির সংখ্যা অবিশ্বাস্য হারে কমে গেছে।

যে কয়েকটি ছবি নির্মিত হচ্ছে সেগুলোও আশানুরূপ সফলতা পাচ্ছে না। একমাত্র শাকিব খান ছাড়া অন্য কারও অভিনীত ছবির পুঁজিও ফেরত আসছে না।

আগের প্রযোজকরা কেউই নেই ইন্ডাস্ট্রিতে। নতুন যে ক’জন প্রযোজক আছেন তারাও ব্যবসা মন্দার কারণে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। আরও একটি কারণ আছে। সেটি হচ্ছে চলচ্চিত্র কর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও বিষয়টি এখনও চরম আকারে রয়েছে। চরিত্র শিল্পীরা তো বটেই, খোদ নায়ক-নায়িকারাও তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে এ মুহূর্তে শঙ্কায় রয়েছেন। অনেকেই হতাশায় নিমজ্জিত। ছবি নেই। প্রযোজক নেই। বেশিরভাগ শিল্পীই বেকার। কলাকুশলী বেকার।

এরই মধ্যে এফডিসি ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি কর্তৃক শুরু হচ্ছে নতুন শিল্পী তৈরির কার্যক্রম ‘নতুন মুখের সন্ধানে’। ঠিক এ বিষয়টি নিয়েই দর্শকমহলে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে ‘নতুন বেকার তৈরির প্রকল্প’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন অনেকে।

কারণ, যেখানে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি চার-পাঁচ বছরের মধ্যে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করা চরিত্রশিল্পী ও নায়ক-নায়িকাই কাজ করতে পারছেন না, সেখানে নতুন করে আরও কিছু শিল্পীর আমদানি ঘটিয়ে কী লাভ? কিংবা কার লাভ? এদের নিয়ে কারা ছবি তৈরি করবেন? নায়ক হিসেবে শাকিব খানের ক্যারিয়ার এখন তুঙ্গে।

তার কথা বাদ দিলে নায়ক হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও রয়েছেন আরেফিন শুভ, ইমন, নীরব, বাপ্পি চৌধুরী, সাইমন সাদিক, শাহরিয়াজ, রোশন, সিয়ামসহ আরও অনেকে। অন্যদিকে নায়িকা হিসেবে রয়েছেন পপি, পূর্ণিমা, মাহিয়া মাহি, পরীমনি, ববি, নুসরাত ফারিয়া, বিদ্যা সিনহা মিম, তমা মির্জাসহ আরও অনেকে। ছবি নির্মাণের হার কমে যাওয়ায় এসব নায়ক-নায়িকাই এখন ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কিত।

তাদের সঙ্গে চরিত্রশিল্পীরা তো একেবারেই বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকে বলেন, তাদের নিয়ে ছবি নির্মাণ করলে দর্শক দেখেন না। কিন্তু কথাটি কী আদৌ সত্যি? নাকি এসব শিল্পীদের নিয়ে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছবি তৈরি করতে পারেন না নির্মাতারা! যদি তাদের ছবি দর্শক না-ই বা দেখেন তাহলে নতুনদের নিয়ে তৈরি করা ছবি যে দেখবে সেই নিশ্চয়তা কী?

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এ যে নতুন শিল্পী আমদানি করা হবে ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের নিয়ে ছবি বানাবেই বা কে? অর্থাৎ সেই প্রযোজক কে বা কারা? যদি সেই নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে কেন নতুন শিল্পী তৈরির নামে আরও কিছু মানুষের ক্যারিয়ার কিংবা জীবন অন্ধকারের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে?

বিষয়টি ঠিক থাকত, যদি ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা রমরমা থাকত, নায়ক-নায়িকা যারা আছে তাদের নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি কুলিয়ে উঠতে পারছে না, তাহলে হয়তো নতুন শিল্পীর প্রযোজনীয়তা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিই যেখানে দুই পায়ে খুুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সেখানে নতুন শিল্পী ডেকে এনে বিপদের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়াটা কারও জন্যই সুখকর হবে না বলেই মনে করছেন সিনে বোদ্ধারা।

তবে বিষয়টিকে এভাবে দেখছেন না চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন। তিনি বলেন, “এ প্রতিযোগিতা যখন প্রথম শুরু হয় তখনও কিন্তু সিনিয়র শিল্পী ছিলেন।

আমরা এটি এ জন্যই করছি, আজ আমি যে অবস্থায় আছি ক’দিন পর সে অবস্থায় থাকব না। তাহলে আমার জায়গায় কে আসবে? সে চিন্তা করেই আমরা ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করেছি।” কিন্তু তাদের কাজের ব্যবস্থা কীভাবে হবে সে ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘হাজীর বিরিয়ানি’ নিয়ে সিয়াম

‘দহন’ ছবিতে ‘হাজীর বিরিয়ানি’ শিরোনামে একটি গান নিয়ে দর্শকদের মাঝে হাজির হয়েছেন ...

Skip to toolbar