সর্বশেষ সংবাদ
Home / খেলাধুলা / অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন না-ও হতে পারে সাকিবের

অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন না-ও হতে পারে সাকিবের

অস্ট্রেলিয়ার বিমান ধরেছেন সাকিব আল হাসান শুক্রবার মধ্যরাতে। এবার তার সফরসঙ্গী হয়েছে দুশ্চিন্তা। কাল মেলবোর্নের অর্থোপেডিক সার্জন প্রফেসর গ্রেগ হয়কে নিজের বাঁ হাতের কড়ে আঙুল দেখিয়েছেন। রক্ত পরীক্ষা হয়েছে। স্পোর্টস মেডিসিনে পারদর্শী গ্রেগ হাত ও কবজির অস্ত্রোপচার বিশেষজ্ঞ।

সাকিব যে সঠিক চিকিৎসকের হাতে পড়েছেন, বোঝাই যায়। প্রাথমিকভাবে দেখার পর গ্রেগ স্বস্তির খবর দিয়েছেন। জানা গেছে, সাকিবের বাঁ হাতের কনিষ্ঠায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন না-ও হতে পারে। মেলবোর্নে ৭২ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে আছেন সাকিব। প্রাথমিকভাবে দেখার পর গ্রেগ হয় জানিয়েছেন, কমপক্ষে তার তিন মাস লাগবে মাঠে ফিরতে। এখনই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। ছয় মাস পর অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে। হাতের সংক্রামণ পুরোপুরি ভালো না হলে হাড়ে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়।

স্বস্তিদায়ক খবর একটাই, তিন মাস পর মাঠে ফিরতে পারবেন সাকিব। এরপর যদি ভালো অনুভব করেন, তখন তাকে ছুরির নিচে না-ও যেতে হতে পারে। এ প্রসঙ্গে সাকিবের বিকেএসপির কোচ ও মেন্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ হচ্ছে। সাকিব সেখানে ৭২ ঘণ্টা চিকিৎসক গ্রেগ হয়ের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এরপরই তার বিষয়ে কী করা যাবে, সেটা চিকিৎসক বুঝতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে সাকিব। তবে গ্রেগের কাছে দেখিয়ে সন্তুষ্ট মনে হলে অন্য চিকিৎসকদের কাছে না-ও যেতে হতে পারে তাকে। গ্রেগ সাকিবকে বলেছেন, আঙুলের ফ্র্যাকচারে অস্ত্রোপচার না করে বিশেষ ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। সেটা কার্যকর হলে ব্যথা অনুভূত হবে না। এমনকি অস্ত্রোপচার আর না-ও লাগতে পারে। তিন মাস পর সে খেলা শুরু করতে পারবে। এরপর যদি সে ব্যথা অনুভব করে, তাহলে আঙুলের অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

অস্ত্রোপচার করাতে হবে- এমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গেছেন সাকিব। ঢাকা ছাড়ার আগে এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার বলেছিলেন, ‘আমার হাত হয়তো আর কখনোই শতভাগ ঠিক হবে না।’ বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী তখন বলেছিলেন, ‘তার আঙুল ঠিক আগের মতো অবস্থায় না গেলেও, আগের মতোই আঙুল দিয়ে সব কাজ করতে পারবে সে।’ কাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হলেও সাকিবের ইনজুরি নিয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।

এ বছরের শুরুতে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় ইনজুরিতে পড়েন সাকিব। চিকিৎসা নেয়ার পর আবার ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে আবার ব্যথাটা বেড়ে যায়। ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেন ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজে।

সাকিব চেয়েছিলেন এশিয়া কাপের পর আঙুলের অস্ত্রোপচার করাবেন। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই তার আঙুলের অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে এ্যাপোলো হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার আঙুল থেকে কয়েক দফা পুঁজ বের করা হয়। এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়া যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রথম পর্বে কট্টর প্রার্থীর জয়

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী জাইর বোলসোনারো জয় পেয়েছেন। ...

Skip to toolbar