সর্বশেষ সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তারে ইঁদুর লড়াই

ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তারে ইঁদুর লড়াই

গত ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হল। এতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সম্মিলিত বিরোধীদলীয় মনোনীত প্রার্থী ইব্রাহীম মোহাম্মদ সলিহ ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে পরাজিত করেন।

বলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রপতি ইয়ামিন চীনের অতি পছন্দনীয় একজন ব্যক্তি, যিনি বরাবরই মালদ্বীপে চীনের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করে আসছিলেন। চীনঘেঁষা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ বা সে দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সব সময়ই ভারতের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাবই হল এর মূল কারণ।

ভারত মূলত তার অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি লাভের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। অতীতের ঘটনাবলি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে এমন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতা ও দলকে তারা সাধারণত পৃষ্ঠপোষকতা বা সমর্থন দিয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কের বিষয়ে বিশ্লেষণ করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে।

এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান অবশ্যই ব্যতিক্রম। ১৯৭৮ থেকে ২০০৮ সাল সময়ে রাষ্ট্রপতি মামুন আবদুল গাইয়ুমের শাসনকালে ভারতের পুরো নিয়ন্ত্রণে ছিল মালদ্বীপ। মামুন আবদুল গাইয়ুম ক্ষমতাচ্যুত হলে মালদ্বীপের ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণের সুতায় টান পড়ে। ২০১৩ সালে ইয়ামিন ক্ষমতায় এলে মালদ্বীপ চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তখন থেকেই ভারত ‘মালদ্বীপ

ডেমোক্রেটিক পার্টি’র ৫৬ বছর বয়সী প্রার্থী ইব্রাহীম মোহাম্মদ সলিহকে সমর্থন দিয়ে আসছিল। সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে সহজেই অনুমান করা যায়, ২৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে চীনের সমর্থক আবদুল্লাহ ইয়ামিনের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মালদ্বীপে ভারতের কূটনৈতিক বিজয় হয়েছে। জানা যায়, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভারতই প্রথম রাষ্ট্র যে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

শুধু তাই নয়, ভারতের গণমাধ্যমগুলোও বেশ সরব হয়ে উঠেছে ইব্রাহীম তুষ্টিতে। ভারতের কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ইব্রাহীমকে মালদ্বীপের আধুনিক রাজনীতির অন্যতম সংস্কারক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও মৌলিক মানবাধিকারের ধারক হিসেবেও ইব্রাহীমকে চিহ্নিত করেছে তারা। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি ঠাণ্ডা মাথায় মোকাবেলা করার ক্ষমতাও ইব্রাহীমের আছে বলে বর্ণনা করছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

ভারত মহাসাগরের ওপর প্রায় ১২০০ ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এ দেশটির মোট স্থলভাগ মাত্র ২৯৮ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা চার লাখ। ক্ষুদ্র এ রাষ্ট্রটির প্রতি চীন ও ভারতের আগ্রহের অন্যতম কারণ এর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের এ সমুদ্রপথে মালদ্বীপের অবস্থানটি এমন এক স্থানে যেখান থেকে অনায়াসে বাণিজ্যিক চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

পৃথিবীর ৬০ শতাংশ বাণিজ্যিক চলাচল হয় এ সমুদ্রপথে। চীন, জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক পণ্য মালাক্কা প্রণালি হয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপে সরবরাহের জন্য এ সমুদ্রপথ ব্যবহৃত হয়।

মালদ্বীপ এ কারণেই ভারত মহাসাগর অঞ্চলের বাণিজ্যিক সমুদ্রপথে নজরদারির সুবিধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়ে আসছে। চীনও দীর্ঘদিন ধরে এ সমুদ্রপথে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। চীন মনে করে, তার বৃহত্তম বাণিজ্যিক উদ্যোগ ‘Belt and Road Initiative’ বাস্তবায়নে মালদ্বীপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

২০১৩ সালে আবদুল্লাহ ইয়ামিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মালদ্বীপ ক্রমেই চীনঘেঁষা হতে শুরু করে। তখন থেকেই চীন মালদ্বীপে ব্যাপক অর্থ ঋণ প্রদান ও বাণিজ্যে বিনিয়োগ করতে থাকে। তারা মালদ্বীপের ১,১৯২টি ক্ষুদ্রদ্বীপের মধ্যে অন্তত ১৬টি ক্ষুদ্রদ্বীপ বিমানবন্দর ও অন্যান্য পর্যটনবান্ধব পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য লিজ নেয়।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০১৩ সালে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও করেছে এ দেশ দুটি। মালদ্বীপে চীনের এত ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ভারত বরাবরই বৈরী চোখে দেখে আসছে। ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তার ও বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে চীনের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীন এত অর্থ মালদ্বীপে লগ্নি করে আসছে বলে ভারত মনে করে।

মালদ্বীপে যেসব চীনা কোম্পানি কাজ করছে, তাদের কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক কারিগরি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সদস্যের আড়ালে চীনের সামরিক সদস্য উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ভারতের আশঙ্কা এবং এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। চতুর্দিক থেকে ভারতকে কোণঠাসা করার জন্য চীন প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এ অঞ্চলে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও সামরিক বলয় তৈরি করার চেষ্টা করছে বলেও ভারত মনে করে।

চীন ইতিমধ্যে পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশেও চীনের প্রচুর পরিমাণ অর্থের কর্মযজ্ঞ চলছে। অতএব এসব কথা বিবেচনা করে অনেক আগে থেকেই ভারত মালদ্বীপে ইয়ামিনবিরোধী জোট গঠনে এবং সরকারবিরোধী তৎপরতাকে ইন্ধন দিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে ভারত যে আপাতত সাফল্য অর্জন করেছে তা বলাই বাহুল্য।

চীন অনেক আগে থেকেই ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নৌ ও বিমানঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে আসছিল। চীন ইতিমধ্যে, গত বছরের জুলাই মাসে, আফ্রিকার জিবুতিতে একটি নৌঘাঁটি উদ্বোধন করেছে। পাকিস্তানের গওয়াদার সমুদ্রবন্দরের কাছেই আরেকটি নৌঘাঁটি স্থাপনের জন্য চীন পাকিস্তানের সঙ্গে বড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।

কিন্তু এতেও উত্তর-পশ্চিম ভারত মহাসাগর অঞ্চলে প্রয়োজনের তুলনায় এ ব্যবস্থা অপ্রতুল বলে চীন মনে করছে। মধ্য ও পূর্ব ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও একই উপায়ে বিভিন্ন সামরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন বলে চীন মনে করে। চীন ইতিমধ্যে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের এশিয়া ও আফ্রিকার বেশকিছু দেশের গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন ও ব্যবহারের জন্য চুক্তি সম্পন্ন করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে।

এগুলো হল- কেনিয়ার মোমবাসা, জিবুতি, পাকিস্তানের গওয়াদার, শ্রীলংকার হামবানটোটা এবং মিয়ানমারের কয়উপ্পু গভীর সমুদ্রবন্দর। চীনের বিভিন্ন কোম্পানি এসব সমুদ্রবন্দর, বিশেষ করে গোয়াদার, হামবানটোটা ও কয়উপ্পু বন্দরের প্রতিটির ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে ৪০ থেকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দলিল সম্পন্ন করেছে।

চীন মূলত ভারত মহাসাগরের পূর্ব-দক্ষিণ লাইন বরাবর তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও বাণিজ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে অবস্থিত চীনের বিপুল অর্থসম্পদ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায়ও চীন এ অঞ্চলে তাদের সামরিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় বদ্ধপরিকর।

অপরদিকে ভারত চীনের এ কোণঠাসা নীতিতে ঘরে বসে নেই। নতুন দিল্লি দ্বীপরাষ্ট্র সেশেল, ওমান ও সিঙ্গাপুরের বন্দরগুলো সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য দেশগুলোর সঙ্গে একমত হয়েছে। ভারত ইতিমধ্যে একটি ‘এয়ার স্ট্রিপ’ এবং একটি নেভাল জেটি নির্মাণের জন্য সেশেল নামক দেশটির সঙ্গে ২০ বছরের জন্য একটি চুক্তি করেছে। সেশেল রাষ্ট্রটির সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত নই।

সেশেল কেনিয়ার পূর্বে এবং মাদাগাস্কারের উত্তর-পূর্বে পশ্চিম ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র। ১১৫টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে এ দেশ গঠিত। এর বেশিরভাগ দ্বীপে মানুষের কোনো বসবাস নেই। মাত্র ৪২টি দ্বীপে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশের বসবাস এবং এ ৪২টি দ্বীপের মোট ভূমির পরিমাণ ২৪৪ বর্গকিলোমিটার, যা দেশটি মোট আয়তনের ৫৪ শতাংশ মাত্র। জনমানবহীন একটি সম্পূর্ণ দ্বীপ ভারতের সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দিতে দেশটি ভারতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

অপরদিকে ভারত ওমানের ‘ডকুম সমুদ্রবন্দর’ ব্যবহারের জন্য অন্য একটি চুক্তি করেছে। বন্দরটি ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এবং এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশে সুবিধা করে দেবে। এ চুক্তির আওতায় নৌবাহিনীর লজিস্টিক সরবরাহ ও সহযোগিতার জন্য ভারত বন্দরটি ব্যবহার করতে পারবে।

ফলে পশ্চিম ভারত মহাসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন পরিচালনা করা সহজ হবে। ‘ডকুম বন্দর’ চীনের বিরুদ্ধে ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তারের জন্য চলমান প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারত সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি নৌঘাঁটি ব্যবহারের জন্য সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অনুরূপ আরেকটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। চেঙ্গি বন্দরটি কৌশলগতভাবে প্রধান আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবস্থিত। ফলে মালাক্কা প্রণালি ও আন্দামান সাগরে চীনের বিরুদ্ধে ভারত প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

ভারত মহাসাগরে এশিয়ার দুই পরাশক্তির প্রভাব বিস্তারের এ প্রতিযোগিতার মধ্যে মালদ্বীপের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ ও আগ্রহের সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্ব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের ফলাফলে সন্তুষ্ট। কারণ তারা ভারত মহাসাগরে চীনের মহাপরিকল্পনার বিপরীতে ভারতের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে বরাবর সমর্থন করে এসেছে।

সন্দেহ নেই, রাষ্ট্রপতি ইয়ামিনের পরাজয় চীনকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। এরপরও নির্বাচনের পর চীন ইব্রাহীম মোহাম্মদ সলিহকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করছে, মালদ্বীপের নতুন সরকার চীনের ব্যাপারে পূর্বতন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অব্যাহত রাখবে এবং মালদ্বীপে চীনের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করবে। নতুন সরকারও আপাতত মালদ্বীপকে চীনের ‘ঋণের ফাঁদ’ থেকে বের করে নিয়ে আসার জন্য চীনকে খ্যাপাবে বলে মনে হয় না।

মালদ্বীপ বর্তমানে চীনের কাছে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণগ্রস্ত। ইব্রাহীম সলিহ আগামী ১৭ নভেম্বর দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি চীন-মালদ্বীপ সম্পর্কের নীতিমালা পর্যালোচনা করে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করা যায়। ইব্রাহীম মোহাম্মদ সলিহ ক্ষমতা গ্রহণের পর মালদ্বীপ যে ভারতের দিকে কিছুটা ঝুঁকে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই তিনি ভারতীয় সমর্থনপুষ্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি মামুন আবদুল গাইয়ুমসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে ইয়ামিনের প্রতি আহ্বান জানান। গাইয়ুম রাষ্ট্রদ্রোহের বিতর্কিত অভিযোগে বন্দি ছিলেন। নির্বাচনের এক সপ্তাহের মধ্যে গাইয়ুমসহ আরও পাঁচজন রাজবন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। যদিও এসব রাজনৈতিক নেতার মুক্তির ব্যাপারে আগেই আদালতের নির্দেশ ছিল; তবে ইয়ামিনের গোঁয়ার্তুমির কারণে এতদিন তারা বন্দি ছিলেন।

চীন দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক পরিমাণ অর্থনৈতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ধীরে ধীরে তার নিজের অবস্থান দৃঢ় করে চলেছে। তারা দৃশ্যমান বৃহৎ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোয় এমনভাবে অর্থ ঢালছে যেন উন্নয়নের চিহ্ন দেখে চীনের প্রতি সে দেশের সাধারণ মানুষের আস্থার সঞ্চার হয়। একই সঙ্গে ভারতের প্রতি বৈরী মনোভাবাপন্ন দেশগুলোকে সরাসরি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও রণকৌশলগত সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

শুধু তাই নয়, উন্নয়ন প্রকল্পের পথ ধরে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে চীন ‘ঋণের ফাঁদে’ এমনভাবে জড়িয়ে ফেলছে যেন এসব দেশ ঋণের এ বলয় থেকে সহজে বের হতে না পারে। অপরদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি ভারতের দাম্ভিক আচরণ দিন দিন ভারতকে একঘরে করে তুলছে। বন্ধুত্বের আড়ালে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে অবাঞ্ছিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্যায্য পৃষ্ঠপোষকতার কারণে সেসব রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ভারত ব্যর্থ হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয় হল- ইব্রাহীম সলিহ ক্ষমতা লাভের পর মালদ্বীপ ও ভারতের সম্পর্ক কতদূর গিয়ে দাঁড়ায়। অনুমান করা যায়, তাদের এ সম্পর্ক আগামীতে আরও ঘনিষ্ঠ ও দৃঢ় হবে। তবে মালদ্বীপ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষা করে চলবে বলে মনে হয়। এ প্রসঙ্গে মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইব্রাহীম সলিহ সরকারের একজন সম্ভাব্য মন্ত্রী ডনিয়া মামুনের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য।

তিনি সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’র সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা ভবিষ্যতে ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে চলার কথা ভাবছি। ভারত আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র এবং ভবিষ্যতেও তা-ই থাকবে। কিন্তু ভারতকেও তার প্রতিবেশী ছোট রাষ্ট্রকে কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হয় তা জানতে হবে। আমরা ছোট হতে পারি; কিন্তু ধোঁকাবাজির কৌশলগুলো কখনও প্রশ্রয় দেই না।’

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নভেম্বরেই হত্যা করা হবে মোদিকে!

চলতি বছরের নভেম্বরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যা করা হবে। রোববার এক ...

Skip to toolbar