সর্বশেষ সংবাদ
Home / বিনোদন / সংকুচিত হচ্ছে ঢাকাই ছবির বাজার

সংকুচিত হচ্ছে ঢাকাই ছবির বাজার

ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশীয় সিনেমার বাজার। বলা যায়, বর্তমানে এ শিল্পের অবস্থা একেবারেই নাজুক! ছবি নির্মাণ কমেছে। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমাহল।

নেই ভালো গল্প, ভালো পরিচালক, দক্ষ নির্মাণশৈলী কিংবা নান্দনিক অভিনেতা-অভিনেত্রী। ইন্ডাস্ট্রিতে এমন আলোচনা-সমালোচনা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এর ধারাবাহিকতায় সিনেমার বাজার সংকুচিত হয়ে আসছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, দেশীয় সিনেমার বাজার কতটা সংকুচিত হচ্ছে? উদাহরণস্বরূপ শুক্রবারের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কথা বলা যায়।

১২ অক্টোবর ‘নায়ক’, ‘মাতাল’, ‘আসমানী’ ও ‘মেঘকন্যা’ নামে চারটি ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ‘নায়ক’ ও ‘মাতাল’ আগে একটি করে সিনেমাহলে মুক্তি পেয়েছে। প্রযোজক সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ঈদ ছাড়া বছরের যে কোনো সময় একসঙ্গে দুটি নতুন ছবির পাশাপাশি দুটি পুরনো ছবিও নতুন করে মুক্তি দেয়া যাবে।

সেই নিয়মে ‘আসমানী’ ও ‘মেঘকন্যা’র সঙ্গে ‘মাতাল’ ও ‘নায়ক’ মুক্তির প্রস্তুতি নিয়েছিল। এ চারটি ছবির কলাকুশলীরাও প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।

সবকিছুই ঠিক ছিল; কিন্তু বাদসাধেন হলমালিকরা। সিন্ডিকেটের বেড়াজালে আটকে ‘আসমানী’ পথ ছেড়ে দেয়। হলমালিকরা ‘মেঘকন্যা’ ছবির প্রতি কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

ফলে হলশূন্য থাকে এ ছবিটি। অন্যদিকে ‘মাতাল’ ও ‘নায়ক’ ছবি দুটি বেশিরভাগ হলে মুক্তির দেয়ার জন্য মালিকরা ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিছু সংখ্যক সিনেমাহল মালিক শাকিব খানের পুরনো ছবি চালানোর কথা জানিয়েছেন।

তবুও তারা ‘মেঘকন্যা’ চালাতে ইচ্ছুক নন। বিষয়টির জন্য ‘মাতাল’ ও ‘নায়ক’ ছবিকে দায়ী করে ‘মেঘকন্যা’র প্রযোজক ‘নায়ক’ ও ‘মাতাল’ ছবির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। এর ভিত্তিতে ‘নায়ক’ ও ‘মাতাল’ সিনেমা দুটিকে পুরনো সিনেমা হিসেবে হলে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘মাতাল’ ও ‘নায়ক’ নতুন করে মুক্তির পথ থেকে সরে দাঁড়ায়।

তবুও খরা কাটেনি ‘মেঘকন্যা’র। মাঠ খালি থাকা সত্ত্বেও মাত্র আটটি সিনেমাহলে মুক্তি দিতে সক্ষম হয়েছেন প্রযোজক। এর মধ্যে অন্যান্য সিনেমাহল মালিক আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাকিব খানের পুরনো ছবিই চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

১২ অক্টোবর ‘নায়ক’, ‘মাতাল’, ‘আসমানী’ ও ‘মেঘকন্যা’ মুক্তি নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এর পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে ছবি মুক্তিতে প্রভাব পড়বে বলে সিনেবোদ্ধারা জানিয়েছেন।

ছবি মুক্তি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও এসব হয়েছে। আর ঠিক এ কারণেই ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পথ সংকুচিত হয়ে আসছে। এক দিকে ছবি নির্মাণ যেমন কমে যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে সিনেমাহলও কমে যাচ্ছে। যে কয়েকটি ছবি নির্মিত হচ্ছে সেখানেও মুক্তি নিয়ে সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। ছবি মুক্তি কিংবা মুক্তি ঠেকাতে মামলা করার বিষয় বাংলাদেশি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক অশনিসংকেত।

বিজ্ঞরা বলেছেন, ছবি মুক্তি নিয়ে সমস্যা থাকলে সবাই বসে সমস্যার সমাধান খোঁজা যেত। কিন্তু এ নিয়ে মামলা করা নিতান্তই দুঃখজনক। কারণ মামলা করে যে লাভবান হয়েছে তা কিন্তু নয়।

মামলা করে হয়তো ছবি মুক্তির পথ পরিষ্কার করা যায়; কিন্তু দর্শক কীভাবে নেবেন প্রেক্ষাগৃহে? তাদের জন্য সে মানের ছবি নির্মাণ করতে হবে। নাহলে একসময় হয়তো মামলা করেই হয়তো দর্শকদের সিনেমা হলে নিতে হবে! আর এ কাজটি সম্ভব নয় বলেই ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পথ সংকুচিত হয়ে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং সেটা অচিরেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আইয়ুব বাচ্চুকে ছাড়া এলআরবির প্রথম কনসার্ট বুধবার

এলআরবি’র প্রাণ আইয়ুব বাচ্চু। কিংবদন্তি এই শিল্পী সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ...

Skip to toolbar