সর্বশেষ সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / নিয়ম মানছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ

নিয়ম মানছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৃদ্ধির পর থেকে নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুটিংয়ের প্রয়োজনে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু শুটিং হাউস। বেশিরভাগ নাটকই এসব হাউসে নির্মিত হচ্ছে।

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর চাহিদার কারণে এখন বিরতিহীনভাবে নির্মিত হচ্ছে অসংখ্য একক ও ধারাবাহিক নাটক। পুরো নাটক সেক্টরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক সংগঠন তৈরি

হয়েছে। এসব সংগঠন কিছু নিয়মনীতির প্রচলন ঘটিয়েছে। এর আলোকে কাজ চলছে। কয়েক বছর আগেও এসব সংগঠন কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলেও বর্তমানে আবার সক্রিয় হয়েছে নাট্যাঙ্গনের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য।

রীতি অনুযায়ী রাত ১১টার পর শুটিং বন্ধ করার নিয়ম থাকলেও অনেক নির্মাতা তা অনুসরণ করছেন না। এতে করে অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে শুটিং। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিল্পী, কলাকুশলী থেকে শুরু করে শুটিং হাউসের মালিকরাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাটকের এক শীর্ষ অভিনেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নাটকের শুটিংয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে না পারলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। নির্ধারিত সময়ে শুটিং শেষ করার কথা বলে শুটিং শুরু করেন নির্মাতারা।

কিন্তু হাউসে কাজ শুরুর পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন করেন না। কখনও কখনও নির্মাতারা ভোর পর্যন্তও কাজ করিয়ে নেন। এতে করে শরীরের ওপর সেই পরিশ্রমের ছাপ পড়ে। যা পরে অন্য নাটকের কাজে প্রভাব ফেলে।

এছাড়া এই অতিরিক্ত সময়ে কাজের জন্য কিন্তু বাড়তি সুবিধা পাই না। আর অসুস্থতার ঝুঁকি তো রয়েছেই। কিছু নির্মাতা একখণ্ডের নাটক একদিনেই শুটিং করে ফেলেন। এই কাজটি করতে গিয়ে অভিনয়শিল্পীদের ওপর মানসিক নির্যাতন করা হয়।’

এ বিষয়ে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এসএ হক অলিক বলেন, ‘শুধু ঈদের নাটক নির্মাণের সময় নিয়মকানুন শিথিলের কথা বলা আছে। তবে অনেক নির্মাতা সেই নির্দেশ অমান্য করেন। তারা সারা বছরই এমন করেন। আমাদের সংগঠন থেকে এরই মধ্যে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমরা সভা করে কঠোর সিদ্ধান্ত নেব।’

অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিমও একই রকম মত ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষে গত কয়েকটি মিটিংয়ে এ বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হয়েছে। আগামী মাসের শুরুতেই পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। অভিনয়শিল্পীসহ সবার স্বার্থে নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে সবার।’

অন্যদিকে নির্মাতারা নিয়ম না মানার কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন শুটিং হাউস মালিকরা। এ বিষয়ে শুটিং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘অতিরিক্ত সময় শুটিং করলেও আমাদের অতিরিক্ত টাকা দিতে চান না পরিচালকরা। এতে করে আমাদের লোকসানের মধ্যে পড়তে হয়। কারণ বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু নির্মাতারা বাড়তি টাকা দিতে চান না।

আর নাটক শুটিংয়ের জন্য নিয়োজিত অন্যান্য টেকনিশিয়ানদেরও কোনো অতিরিক্ত টাকা দেয়া হয় না বলে শুনেছি। আমার আপনঘর শুটিং হাউসে প্রায়ই শেষ রাত পর্যন্ত শুটিং করা হয়। সংগঠনগুলো যদি এই অতিরিক্ত সময়ের শুটিং বন্ধ করতে পারেন তাহলে সবার জন্যই ভালো হবে।’

অতিরিক্ত সময়ে শুটিং করা প্রসঙ্গে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘যেসব পরিচালক অতিরিক্ত সময় শুটিং করেন তাদের কাজই আমি করি না। প্রত্যেক পরিচালককে নিয়ম মেনে শুটিং করার চেষ্টা করতে হবে। অভিনয়শিল্পীদেরও সচেতন হতে হবে সময় মতো শুটিং স্পটে আসার জন্য। এ ব্যত্যয় হলে পুরো ইউনিটকেই বেকায়দায় পড়তে হয়। শুধু পরিচালকের দোষ দিয়ে লাভ নেই। শিল্পীদেরও অনেক দায় আছে এ বিষয়ে।’

কোনো কোনো নির্মাতা নিয়ম-কানুন না মানলেও এরই মধ্যে নাটক নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সবাই সোচ্চার হয়েছেন অতিরিক্ত সময় শুটিং বন্ধ করার জন্য। যদি এ বিষয়টির সুরাহা হয় তাহলে আরও ভালোভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হাতির সমান গরু!

মাঠে চরে বেড়াচ্ছে শত শত গরু। পালের সঙ্গে হেলেদুলে ঘুরে ঘুরে ঘাস ...

Skip to toolbar