সর্বশেষ সংবাদ
Home / বিনোদন / টিভি নাটকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট কতটুকু ফুটিয়ে তোলা সম্ভব?

টিভি নাটকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট কতটুকু ফুটিয়ে তোলা সম্ভব?

ডিসেম্বর কিংবা মার্চ মাস এলেই টেলিভিশনে মুক্তিযুদ্ধের নাটক প্রচার হতে দেখা যায়। এ ছাড়া বছরের বাকি সময়গুলোয় টিভিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো কিছুই প্রচার হয় না।

আবার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক যে নাটক, টেলিফিল্মগুলো প্রচার হয় সেগুলোয়ও পরিপূর্ণভাবে মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো প্রতিফলিত হয় না। এ বিষয় নিয়ে সম্প্রতি যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন কয়েকজন নির্মাতা।

আবারও বছর ঘুরে এসেছে বিজয়ের মাস। মুক্তিযুদ্ধের এ তাৎপর্যপূর্ণ সময়কে স্মরণ করা হচ্ছে দেশজুড়ে। বিনোদন মাধ্যমও পিছিয়ে নেই। নাটক, টেলিফিল্ম, তথ্যচিত্র, সিনেমা, মঞ্চ নাটক, কবিতা আবৃত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় বেশি ডিসেম্বরেই।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা প্রচারের সংখ্যা কম হলেও এ মাসে সব টেলিভিশন চ্যানেলে একাধিক নাটক-টেলিফিল্ম প্রচার হয়। কিন্তু এগুলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট কিংবা গল্প সঠিকভাবে ফুটে উঠছে না। এটা কী সময়ের স্বল্পতা নাকি মানসিকতার অভাব? বিষয়টি নিয়ে নির্মাতাদের ভাবনাও ভিন্ন।

টিভি নাটকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট কতটুকু ফুটিয়ে তোলা সম্ভব? এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্মাতা এসএ হক অলিক বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মানুষদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানাতে হলে বেশি বেশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গল্প নিয়ে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে ধারাবাহিক নাটক নির্মিত হতে পারে।

একক নাটকগুলোয় মুক্তিযুদ্ধের বিচ্ছিন্ন বিষয় চিত্রিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ অবশ্যই অনেক বড় ক্যানভাস। এক খণ্ডের নাটকে এটির খণ্ডাংশ তুলে ধরা হয়। ধারাবাহিক নাটক নির্মিত হলে গল্পের একটি ঘটনার ছায়া এখানে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।’

আরেক নির্মাতা মাসুদ সেজান বলেন, ‘এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের কাজ। সে সময়টাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। তাই সেখানে কিছু প্রতিবন্ধকতা এমনিতেই চলে আসে। ওই সময়কে ধরা কিংবা গল্পটাকে এ সময়ে নিয়ে আসা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গিয়ে গল্পটাকে নিয়ে আসা হচ্ছে।

যদি আমরা ’৭১-এ গিয়ে গল্পটা বলতে চাই, তাহলে সেই সময়কে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হয় সেটি অনেকটা কষ্টসাধ্য এবং এটা বাজেটের ওপর নির্ভর করে। টিভি নাটকে সেই বাজেট পাওয়া যায় না।

সেই কারণে নাটকগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আবার এ সময়ে এসে সেই গল্পটা বলার চেষ্টা করেছেন কয়েকজন। আমি এ পর্যন্ত যে কাজগুলো দেখেছি সেগুলোয় প্রপার ওয়ার্ক মনে হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধের যে বিশালতা, ব্যাপ্তি, মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ে যে মানসিক অবস্থান তৈরি হয়, সেটি কিন্তু নাটক দেখে আমি পাই না। মুক্তিযুদ্ধের নাটক টিভি চ্যানেলের একটা ফরমায়েশি কাজ হয়ে গেছে।’

বিষয়টি প্রসঙ্গে অনিমেষ আইচ বলেন, ‘টেলিভিশন নাটক তো একটি গণমাধ্যম। পরবর্তী প্রজন্মকে আমাদের ইতিহাস জানানোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মুক্তিযুদ্ধ একটি গবেষণানির্ভর বিষয়।

এ ধরনের গল্প নিয়ে নাটক নির্মাণ করতে হলে অনেক অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে হয়। যদি ২৬ পর্বের একটি মুক্তিযুদ্ধের নাটক আমাকে বানাতে দেয়া হয়, তাহলে আমার প্রস্তুতি এক বছর দরকার। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় টাকাও দিতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নেয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধের গল্পকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।’

এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রত্যেক বছরই প্রচুর নাটক ও টেলিফিল্ম নির্মিত হয়। একক নাটকের ক্ষেত্রে সময়টাকে ধরা খুব কষ্টকর।

যেহেতু এটি একটি ইতিহাসনির্ভর বিষয়, তাই সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারলে সমস্যা হয়ে যায়। সেই কারণেই বোধ হয় ধারাবাহিক করা হয় না। তা ছাড়া নাটকের বাজেট একটা বড় বিষয়। বিষয়ভিত্তিক এ ঘটনাগুলো ঠিকভাবে তুলে ধরাও একটা চ্যালেঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধের পরের সময়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিন্তু নাটক নির্মাণ করা যায়।

এখনকার জেনারেশন তো আর মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। ওরা ছোটগল্প কিংবা ঘটনা নিয়ে কাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধের যেসব ঘটনাবলী লেখকরা রেখে গেছেন, সেসব বিষয় নিয়েই কাজ হচ্ছে।’

মুক্তিযুদ্ধের নাটক নির্মাণে বাজেট অন্য বিষয়ের পাশাপাশি মেধাশূন্য তাকেও দায়ী করছেন নির্মাতা গাজী রাকায়েত। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের বিষয় আমাদের নাটক, টেলিফিল্ম, মঞ্চ নাটক ও সিনেমায় উঠে আসছে।

মুক্তিযুদ্ধের বিষয় তো নাটকে কেন সিনেমাতেও তুলে আনা সম্ভব নয়। শুধু গেরিলা সিনেমাতেই মুক্তিযুদ্ধকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাই মুক্তিযুদ্ধকে ঠিক মতো তুলে ধরতে পারছে না।

মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে সুন্দরভাবে তোলার জন্য বর্তমান চ্যানেলের যে বাজেট এবং নাটকের যে কন্ডিশন তাতে মুক্তিযুদ্ধের একটি রিঅ্যাকশন পার্ট তুলে ধরা হয়। টেলিভিশনে ভালো বাজেটের জন্য যে তোলা যাবে না তা বলছি না, কারণ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অসম্ভব শিল্প সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু তার জন্য যে মেধার দরকার সেই মেধার বড় সংকট চলছে এখন। বিশেষ করে নাট্য রচনার ক্ষেত্রে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা যায় একটি সুন্দর স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অনলাইনে হেডফোন অর্ডার করে কী পেলেন সোনাক্ষী!

অনলাইন শপিং যুগের আর্শীবাদ। ঘরে বসে স্মার্টফোনে আঙুলের ছোঁয়ায় পছন্দনীয় পণ্য কিনে ...

Skip to toolbar