সর্বশেষ সংবাদ
Home / লাইফস্টাইল / ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অ্যালকোহল, বলছে গবেষণা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অ্যালকোহল, বলছে গবেষণা

সারাবিশ্বে ডায়াবেটিস অতিপরিচিত রোগ। অনেকের ধারণা ডায়াবেটিস হলে তা থেকে কখনই মুক্তি মেলে না। তবে জেনে রাখা ভালো আপনার এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বিভিন্ন সমীক্ষার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। তাদের মতে, নিয়ম মেনে সঠিক খাবার খেলে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ডায়াবেটিস কি?

স্বাভাবিকের চেয়ে রক্তে বেশি শর্করা বা সুগার থাকলে তাকে বলা হয় ডায়াবেটিস মেলাইটাস বা সংক্ষেপে ডায়াবেটিস। বাংলায় এই রোগকেই মধুমেহ বলা হয়। এই রোগের সঙ্গে চোখের অসুখের অবশ্যই সম্পর্ক রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা বিশ্বে বর্তমানে ৪২.৫ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডায়বেটিসে আক্রান্ত। ডায়বেটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১১ লক্ষ ৬ হাজার ৫০০। বছরে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় ডায়বেটিসের কারণে। ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ব্যাধী।

ডায়াবেটিস ধরা পড়লে প্রথমেই মিষ্টি জাতীয় খাবার বন্ধ করার কথা বলেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে একেবারে বদলে যায় রোজকার রুটিন। তখন ইনসুলিন ইনজেক্সনই হয়ে ওঠে একমাত্র ‘রক্ষাকবচ’। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ওজন কমানোর অব্যর্থ ওষুধ হল অ্যালকোহল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০ বছরের প্রাচীন পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের মতে, শরীরের অতিরিক্ত ওজনই এই ডায়াবেটিস রোগের অন্যতম কারণ।শরীরের অতিরিক্ত ওজন নাকি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে অ্যালকোহল! তবে এই অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঠিক কতটা পরিমাণ অ্যালকোহল সেবন করা উচিত, তা নিয়ে এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আরিয়ানা এম চাও জানান, সারা বিশ্বের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯০-৯৫ শতাংশই টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। শরীরের অতিরিক্ত ওজন আর রক্তের শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির জন্য নিয়ন্ত্রিণহীন, অনিয়মিত খাদ্যাভাস, বেহিসেবি জীবনযাপনকেই দায়ি করেছেন তিনি।

চাও জানান, ৫,০০০ প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা ও পুরুষের ওপর দীর্ঘ চার বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট মাত্রায় অ্যালকোহল সেবন করতে পারলে শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলা অনেকটাই সহজ হয়।

গবেষণা দেখা গিয়েছে, চার বছর ধরে যাদের অ্যালকোহল দেয়া হয়েছিল, তাদের ওজন অন্যদের তুলনায় অনেকটাই কমেছে আর রক্তে শর্করার পরিমাণও অনেক নিয়ন্ত্রণে।

অধ্যাপক চাও জানান, স্বল্পমেয়াদী প্রক্রিয়ায় ওজন কমানোর চেষ্টা না করে বিজ্ঞানসম্মত দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে এই গবেষণায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যৌবন ধরে রাখবে যেসব খাবার

নিজেকে সুন্দর দেখাতে আমরা অনেক ধরনের রূপচর্চা করে থাকি। তবে আপনি জানেন ...

Skip to toolbar