করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে ডোমরা

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ায় মরদেহ কাঁটাছেড়া নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) মর্গের ডোমরা।

তারা বলছেন, কোন মরদেহ কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত নয়, এর নিশ্চয়তা নেই। তারা ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য কিছু পাননি। তারা নিজেরাই এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য রামেকে স্থাপিত ল্যাব থেকে সব ধরনের বর্জ্য নিয়ে ফেলা হচ্ছে মরদেহ কাটা ঘরের পাশে। সেখানে একটু গর্ত করা হয়েছে। গর্তের পানির ভেতরেই বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে। এই গর্তের পাশ দিয়ে ডোমরা চলাচল করেন। তাই এখান থেকেও ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। ডোমরা বিষয়গুলোর প্রতিবাদও জানিয়েছেন।

রোববার সকালে কীটনাশক পানে মারা যাওয়া এক তরুণীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে গেলে ডোমরা সেটি কাটা-সেলাইয়ে ভয় পান। মরদেহটি কাটা বাদ দিয়ে ছয়জন ডোম রামেক ক্যাম্পাসে গিয়ে ভাইরাসবিদ্যা বিভাগের প্রধান সাবেরা গুলনাহারের কাছে যান। তারা মরদেহ কাটা-সেলাইয়ের সময় তাদের ব্যবহারের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক (পিপিই), গ্লাভস এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার দাবি করেন।

এছাড়া, করোনার ল্যাবের বর্জ্যগুলো মর্গের পাশে না ফেলে পুড়িয়ে ফেলার অনুরোধ করেন। সাবেরা গুলনাহার ডোমদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে কাজে পাঠান।

ডোম তপন কুমার বলেন, তারা যদি রোগে আক্রান্ত হন, তাহলে তাদের পরিবারের সদস্যরা বিপদে পড়বেন। তাই তারা তাদের সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছেন। তা না হলে কাজ করা সম্ভব হবে না।

আরেক ডোম বিপন কুমার বলেন, মরদেহ মর্গে ঢোকানো, কাটা, সেলাই আবার গাড়িতে তুলে দেওয়ার সব কাজই তাদের। ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক শুধু নমুনা সংগ্রহ করেন। মৃতদেহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকলে তাদের সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি। কিন্তু পিপিই দূরের কথা, তাদের জন্য গ্লাভস কিংবা স্যানিটাইজার পর্যন্ত নেই।

জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, ডোমদের জন্য ১০টি পিপিই আছে। সেগুলো ফরেনসিক বিভাগের প্রধানকে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো এখনও ডোমদের দেওয়া হয়নি। সব মরদেহ কাটার সময় ডোমরা পিপিই ব্যবহার করতে পারবেন না। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিংবা চিকিৎসকদের সন্দেহজনক মরদেহ কাটার সময়ই সেগুলো ডোমদের দেওয়া হবে।

মরদেহ কাটা ঘরের পাশে করোনার ল্যাবের বর্জ্য ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্জ্যগুলো বিশেষ ধরনের পলিথিন ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলা হয়। তাই সেখান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও বিষয়টি নিয়ে ডোমদের আপত্তির কারণে তারা বিকল্প কিছু চিন্তা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com