গর্ডনের সাত মিনিট জুড়ে ছিল বাংলাদেশ

ঘটনা ২০১৮ সালের ১৪ মে-র। ১৯ বছর পর বাংলাদেশে এলেন বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন কোচ গর্ডন গ্রিনিজ। চারিদিকে হই হই রব। উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘ সময় পর তাকে কাছে পাওয়ার আনন্দে ভেসে যাচ্ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটাঙ্গন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের অন্যতম কাণ্ডারি গর্ডন ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশের কোচ। তার হাত ধরে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। তার শিষ্যরাই দুই বছর পর বিশ্বকাপে হারিয়েছিল পাকিস্তান আর স্কটল্যান্ডকে। কিন্তু ওই বিশ্বকাপ চলাকালিন তাকে বরখাস্ত করে তৎকালিন বোর্ড। চুক্তি শেষ হওয়ার একদিন আগে হঠাৎ কেন এমনটা হয়েছিল তা নিয়ে আজও মুখ খুলেননি গ্রিনিজ, বিসিবি!

‘রাগ-ঢাক’ ভুলে ১৯ বছর পর গ্রিনিজ বাংলাদেশে এলেন। নিজের ইচ্ছা প্রকাশের পর বিসিবি তাকে জানালো আমন্ত্রণ। বলা হলো বিসিবি দেবে সংবর্ধনা। সেই সংবর্ধনা রূপ পেল প্রাক্তন ক্রিকেটার, সংগঠক, সাংবাদিকদের মিলনমেলা। সেখানে সবার মধ্যমণি ছিলেন গর্ডন গ্রিনিজ।

হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রায় সাত মিনিট বক্তব্য দেন গর্ডন। চোখে মুখে ছিল আবেগ। কথা বলতে বলতে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন। মুখ থেকে শব্দ বের হচ্ছিল না। স্মৃতি আর উৎফুল্লতার সাথে চোখের কোনে জমছিল জল। কিন্তু কথা যে তাকে বলতেই হবে। সেদিন সবাই তার কথা শুনতে ব্যাকুল ছিল।

যখন কথা বলা শুরু করলেন, তখন উপস্থিত সবাই নীরব। প্রতিটি বাক্যে, প্রতিটি শব্দ ভালোবাসার আবীর মাখানো। বারবার তার বক্তব্যে ওঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসা। সেদিনের পুরো বক্তব্য শুনেছিল রাইজিংবিডি।

আজ আইসিসি ট্রফি জয়ের দিনে গর্ডনের সেই বক্তব্য স্মৃতিচারণ করছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ।

‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকবৃন্দ, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সকল অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী সকলকে শুভ সন্ধ্যা।’

‘আমি বুঝতে পারছি না, এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য এই মুহূর্তে আমার ঠিক কাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত! তবে আমি আশরাফুল হকের (এসিসির প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী) প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা গত বছর লন্ডনে দেখা করেছিলাম। এ বছরও দেখা হল মালয়েশিয়া। বিশ্বের ঠিক এ প্রান্তে যে তার সাথে আমার দেখা হবে তা কখনো ভাবিনি। কিন্তু হয়ে গেল। আমার মেয়ে দোহায় শিক্ষকতা করছে। ওর সঙ্গে দেখা করতে মালয়েশিয়ায় আসা। ওখানে এসে চিন্তা করলাম বাংলাদেশের এতো কাছে এসে বাংলাদেশে না যাওয়া ভালো হবে না। তাই বাংলাদেশেও চলে এলাম।’

‘এখানে এসে এ ধরনের সম্মান পাবো তা ভাবতেও পারিনি। সত্যি বলছি…। বাংলাদেশে আমার এখনও অনেক বন্ধু রয়েছে। তবে আমাদের যেভাবে যোগাযোগ করা উচিত ঠিক সেভাবে যোগাযোগ হচ্ছে না। দু-একজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো তাদের সঙ্গেও এখন কথা হচ্ছে না। লিপু (গাজী আশরাফ হোসেন) ও সাদ (তানজীব আহসান) আমরা আগে প্রায়ই যোগাযোগ করতাম। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে যোগাযোগ এখন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এটা হতাশার। আশা করছি তাদের সঙ্গে এখানে আমার দেখা হবে।’

‘আমার এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম তাদেরকে আবার একসঙ্গে পেলাম। খুব বেশি সময় কাজ করেছি তা বলবো না। খুব অল্প সময় আমরা একসঙ্গে ছিলাম। কিন্তু ওই স্বল্প সময়ে আমরা দারুণ সম্পর্ক তৈরি করেছিলাম। একটা বন্ধন তৈরি হয়েছিল। এবং ওই বন্ধনের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com