ছুরিকাঘাত ও মুখে বিষ ঢেলে ছোট ভাইকে খুন, বড়ভাইসহ গ্রেফতার ২

টাঙ্গাইলের সখীপুরে পেটে ছুরিকাঘাত ও মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার ২৫ ঘণ্টা পর এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের হতেয়া বড়চালা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক নয়টার দিকে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টায় মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওই কৃষক মারা যান।

নিহত ওই কৃষকের নাম খোরশেদ আলম (৫৫)। তিনি হতেয়া বড়চালা গ্রামের মৃত মোকদম আলীর ছেলে। মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে নিহতের ছেলের করা মামলায় পুলিশ ১ নম্বর আসামি নিহতের আপন বড়ভাই মোকছেদ আলী (৬০) ও প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেনকে (৪৫) পুলিশ শুক্রবার রাতেই গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আজ শনিবার দুপুরে ওই দুই আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছেন।

মামলার বাদী নিহতের ছেলে আবু হানিফ ও সখীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত খোরশেদ আলমের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বড়ভাই গ্রেপ্তার হওয়া মোকছেদ আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয় বাজার থেকে স্ত্রীর ওষুধ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক নয়টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ি থেকে ৩০০গজ দক্ষিণে এসে পৌঁছালে তাঁর বড়ভাই মোকছেদ আলী ও সঙ্গে থাকা আরও তিনজন মিলে তাঁকে জাপটে ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেন তাঁর পেটের বাঁ দিকটায় ছুরি ঢুকিয়ে দেন। পরে চারজনে ধরে জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে দেয়। শব্দ পেয়ে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিজ বাড়িতে পরে রাত ১টার দিকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাত তিনটার দিকে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে আবার তাঁকে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পেটে ছুরিকাঘাত থাকায় পেট থেকে বিষ বের করতে না পেরে রাত সোয়া ১০টায় মারা যান খোরশেদ আলম।মামলার বাদী আবু হানিফ বলেন, আমার বাবা ওই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত কথা বলতে পেরেছেন। এরপর আর জ্ঞান ফিরে আসেনি। বাবা আমাদের সব কাহিনী বলে গেছেন। আমরা বাবার বক্তব্য ভিডিও করে রেকর্ড করে রেখেছি। আমার বাবাকে জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী চাচা ছানোয়ার হোসেন আমার বাবার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। তাঁদের চিন্তা ছিল বাবা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার দেবে। কিন্তু বাবা ঘটনার পরও তিন ঘণ্টা কথা বলতে পেরেছেন।

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল্লাহ আজ বেলা একটায় বলেন, লাশ মির্জাপুর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি দুইজনকে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আজ দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান উকিল মুঠোফোনে বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত খোরশেদ আলমের পেটের বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালের প্রতিবেদনে বিষপানে (আননোন পয়জনিং) বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com