জামালপুরে সাংবাদিককে মারধর, ক্যামেরা ভাঙচুর

জামালপুরে ত্রাণের স্লিপের তালিকা তৈরি নিয়ে সংঘর্ষের চিত্র ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন সময় টিভি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ক্যামেরা পার্সন। এসময় সময় টিভির ক্যামেরা ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।

শনিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জামালপুর শহরের শাহাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণের স্লিপের তালিকা তৈরি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে বাধে।

সংঘর্ষের চিত্র ধারণ করতে গেলে হেলাল কাউন্সিলরের ছেলে অন্তরের নেতৃত্বে সময় টিভির ক্যামেরা পার্সন আবুল কালাম আজাদ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ক্যামেরা পার্সন আল-আমীনকে মারধর করা হয়। সেসময় সময় টিভির ক্যামেরা ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।

গুরুতর আহত অবস্থায় সময় টিভির ক্যামেরা পার্সন আবুল আজাদকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘ত্রাণের স্লিপের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে ১০০ টাকা আদায় করছে হেলাল কাউন্সিলর। বিষয়টি জানাজানি হলে আমি প্রতিবাদ করি। শনিবার সন্ধ্যায় আমার ভাই তোফাজ্জল চা বিক্রি করে আসার পথে হেলালের ছেলে অন্তর, রাজু ও সৌরভ তাকে মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাদের লোক জনকেও মারধর করে তারা।’

এ বিষয়ে পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘পৌর মেয়রের নির্দেশে বাড়িতে বসে ত্রাণের জন্য ৪৯০ জনের তালিকা তৈরির করছিলাম। এসময় মোজাম্মেলের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক স্লিপের জন্য অর্তকিত হামলা চালায়।’

সাংবাদিকদের মারধর এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার লোকজন নয় বরং মোজাম্মেলের লোকজনই ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে।’

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান জানান, তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ব্যপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার পর এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ক্যামেরা ভাঙচুরের প্রতিবাদে শনিবার রাতেই জামালপুর প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com