নেইমারের চোখে পানি এনে বায়ার্নের ‘বুনো শিরোপা উল্লাস’

পরাণ আমার কেঁদে বেড়ায়

দুরন্ত বাতাসে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের এই বাক্যগুলোই যেন ৫ হাজার মাইল দূরে বসে মনে মনে পড়ছিলেন নেইমার। পুরো ম্যাচে নিজের সেরা নেইমারকে বেড়িয়ে আনতে না পারলেও সতীর্থদের বেশ কয়েকটি সুযোগ ‘মুখে তুলে দিয়েছিল’। কিন্তু ফাইনালের চাপ যে এখনও নিতে শিখেনি ২২ বছরের এমবাপ্পের কাঁধ, তারই প্রমাণ যেন বারবার দিলেন পুরো ম্যাচে। শেষ পর্যন্ত নেইমারদের কাঁদিয়েই শিরোপা জেতা বুনো উল্লাস করেছে দক্ষিণের তারকারাজিরা। পুরো ম্যাচে নিজেদের নামের সাথে সুবিচার করেই খেলে গেছেন প্রেসিং ফুটবল। যেখানে বায়ার্ন সকলের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

ফাইনাল হয়েছে ফাইনালের মতোই। খেলার শেষ ক্ষণ পর্যন্ত ছিল উত্তেজনার জোয়ার। যেখানে দুই গোল কিপারের অনবদ্য নৈপুণ্যে কোয়ার্টারফাইনালের মতো ৮ গোল দিতে পারেনি কোনো দল। বরং এক গোলেই নির্ধারিত হয়েছে বছরের ‘চ্যাম্পিয়ন ক্লাব’। পর্তুগালের লিসবনে রোববার (২৩ আগস্ট দিবাগত রাতে) ম্যাচের ১৬ মিনিটে নেইমার সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের। কিন্তু তার নেওয়া শট দুইবার ফেরে বায়ার্নের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের পায়ে লেগে। ২২ মিনিটে বায়ার্নের রবার্ট লিওয়ানডোস্কির নেওয়া শট পিএসজির কেইলর নাভাস ধরতে পারেননি। নিশ্চিত গোল হতে পারতো। কিন্তু শট লাগে গোলবারে। ২৪ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন পিএসজি তারকা অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। কিন্তু মিস করেন এই আর্জেন্টাইন। তার নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৩০ মিনেটে লিওয়ানডোস্কি আরো একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। এ সময় তার নেওয়া হেড পাঞ্চ করে ফেরান নাভাস। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ডি বক্সের মধ্যে গোলরক্ষকে একা পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু তিনি সরাসরি মেরে দেন নয়্যারের পায়ে! লিসবনে গোলশূন্য সমতা নিয়ে বিরতিতে গেছে দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে ফের শুরু হয় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তবে এবার বায়ার্নকে একটু বেশি আক্রমণাত্মক দেখা গেছে। পিএসজির ডেঞ্জার জোনে বল রেখে আক্রমণের ছক আঁকতে থাকে বায়ার্ন। ম্যাচের ৫৮ মিনিটের মাথায় আসে সফলতা। জশোয়া কিমিচের তুলে দেয়া ক্রসে দুর্দান্ত হেড করে পিএসজির জালে বল জড়ান কিংসলে কোমান। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠলেও ৬৬ মিনিটে ফের সুযোগ হাতছাড়া হয় এমবাপ্পের। ডি মারিয়ার এসিস্টকে গোলে পরিণত করতে পারেননি তিনি। সমতায় ফেরার বদলে উল্টো ৮৩ মিনিটে বিপদে পড়ে পিএসজি। ডি বক্সের কাছাকাঠি গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান লেভানদোস্কি। তবে ডিয়েগো সিলভা ফাউল করে গোল হজম করা থেকে দলকে বাঁচান। হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। বক্সের খুব কাছে থেকে স্পট কিক নিয়ে পোস্টের বাইরে বল পাঠান কৌতিনহো। এভাবেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি পিএসজি। ফলাফল ১-০ ব্যবধানে জয় পায় বায়ার্ন মিউনিখ। আক্রমণাত্মক ফুটবলে অদম্য হয়ে ওঠা বায়ার্ন চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য সবকটি শিরোপাই ঘরে তুলেছে। ২০২০-এ কোনো ম্যাচ না হারা দলটি এই নিয়ে টানা ২১ ম্যাচ জয়ের পথে উঁচিয়ে ধরল বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ ও এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। অপরদিকে, ম্যাচ হেরে নেইমারের কান্না বর্তমানে ম্যাচের বড় দৃশ্য। হয়তো মন খারাপ করে ক্লাবই পরিবর্তন করবেন নেইমার। যেখানে বার্সায় ফেরার গুঞ্জন সবচেয়ে প্রখর। বার্সা সমর্থকরাও হয়তো সেটি-ই চায়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com