নেশার টাকার জন্য ডাকাতি, চিনে ফেলায় হত্যা

গাজীপুরের শ্রীপুরে মা ও তিন সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে র‌্যাব।

খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে অনলাইন ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, রিকশা চালানো, ভাঙাড়ি কুড়িয়ে বিক্রি, চুরি, ছিনতাই ছিল মূল পেশা। এ আয় দিয়েই নেশা করতো তারা (আসামিরা)। করোনাভাইরাসের কারণে সব আয় বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি জানান, এ সময় মালেয়শিয়া প্রবাসী রেজওয়ান হোসেন কাজলের বাড়িতে হুন্ডির মাধ্যমে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা আছে বলে ধারণা করে আসামিরা। তবে বাড়িতে গিয়ে ভুল ভাঙে তাদের। ৩০ হাজার টাকা ও কিছু স্বর্ণালঙ্কার ছাড়া আর কিছুই পায়নি তারা। ধর্ষণ করে মা ও দুই মেয়েকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছে জানিয়ে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, এরা সবাই মাদকসেবী। দীর্ঘদিন চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত। পারভেজ ধর্ষণসহ হত্যা মামলার আসামি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক জানান, ঘটনার ৫ থেকে ৭ দিন আগে কাজিম ও হানিফ একত্রিত হয়ে কাজলের বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরে বশির, হেলাল, এলাহি এবং অন্যদের ডেকে নিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এদের দলে কাজিমের ছেলে পারভেজও ছিল।

যেভাবে ডাকাতি হয়

জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সারওয়ার বিন কাশেম জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৩ এপ্রিল রাতে প্রথমে পারভেজ ভেন্টিলেটর দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। হানিফ গাছ এবং পাইপ দিয়ে ছাদে ওঠে সিড়ির ঢাকনা খুলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর অন্যদের প্রবেশের জন্য বাড়ির পিছনের ছোট গেট খুলে দেয়। কাজিম, হেলাল, বশির, এলাহি এবং আরও কয়েকজন পেছনের গেট দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে।

কাজিম এবং হেলালসহ তিনজন প্রথমে ফাতেমার ঘরে ঢুকে এবং কাজিমের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফাতেমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকাগুলো দিতে বলে। ফাতেমা এত টাকা নেই বলে জানায়। পরে ফাতেমা তার রুমের স্টিলের শোকেসের ওপর রাখা টেলিভিশনের নিচে চাপা দেওয়া ৩০ হাজার টাকা বের করে দেয়। পরবর্তীতে ফাতেমার স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয় এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অন্যান্য রুমেও লুট চলতে থাকে। আসামি বশির ও এলাহিসহ আরও একজন ভিকটিম নুরাকে তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে গলার চেন ছিনিয়ে নেয়। তাকেও পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। বশিরসহ আরও একজন ফাতেমার ছোট মেয়েকে ধর্ষণ করে। পারভেজও হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণে অংশ নেয়।

চিনে ফেলায় হত্যা

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, ফাতেমা ও তার মেয়ে তাদের কয়েকজনকে চিনে ফেলায় সবাইকে হত্যা করা হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক জানান, মঙ্গলবার রাত ১ টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গাজিপুরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—মো. কাজিম উদ্দিন, মো. হানিফ), মো. বশির, মো. হেলাল, ও মো. এলাহি মিয়া। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল পারভেজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

প্রসঙ্গ, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় আবদার গ্রামে গলা কেটে মালয়েশিয়া প্রবাসী কাজলের স্ত্রী ফাতেমা (৩৫), তার বড় মেয়ে নুরা ১৬), ছোট মেয়ে হাওরিন (১৪) ও প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিলকে (৬) হত্যা করা হয়।

ফোর মার্ডার: ৪ বিষয় নিয়ে তদন্তে পুলিশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com