‘পেট তো আর করোনা বোঝে না, লকডাউন মানে না’

‘দ্যাশোত নাকি করোনা আইছে। সবাই ঘর থেকে বের হবার নিষেধ করে। ঘর থেকে বের না হলে করমু কী? কিছু না করলে খামু কী? পেটে তো আর খিদা সহ্য হয় না। পেট তো করোনা বোঝে না। পেট তো আর লকডাউন মানে না।’

ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলো হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের শিশু আয়েশা।

শুক্রবার (৩ মার্চ) সকালে গ্রামের পুরানবাজার লৌহ ব্রিজের কাছে ছোট ভাইকে নিয়ে ক্ষুধার্ত আয়েশা একটু ত্রাণের আশায় দাঁড়িয়ে ছিলো।

করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট দুর্যোগে শুক্রবার পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পায়নি তারা। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে সকালে ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে ত্রাণের জন্য বের হয় সে।

ছোট্ট আয়েশা জানায়, পুরানবাজার লৌহ ব্রিজের কাছের ছোট বস্তিতে তারা বাস করে। তার বাবা আল-আমিন বেঁচে নেই। আয়েশাসহ তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রেখে গেছেন তার বাবা। বর্তমানে মা পারুল আক্তারের কাছে আয়েশাসহ তারা ৫ ভাই বোন থাকে। মা কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে কোনোরকম তাদের দিন চলে।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গৃহবন্দী হয়ে আছেন আয়েশার মা। তার কোনো কাজ নাই। ঘরের সঞ্চিত খাবার শেষ হয়ে গেছে। নেই গচ্ছিত টাকাও। তাই ছোট ছোট ভাইবোনসহ বাড়ির সবাই তারা না খেয়ে আছে।

আয়েশা আক্ষেপ করে বলে, ‘আমরা পাঁচ ভাইবোনসহ মা না খেয়ে আছি। কেউ কোনো দিন আমাদের খোঁজ নেয় না। গরীবের কেউ নেই। করোনা হয়ে মরে যাবার আগে আমরা না খেয়ে মরে যাবো।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় সাবেক মেম্বার হেলাল আহমেদ জানান, বিষয়টি খুবই হৃদয় বিদারক। এক মা তার সন্তানদের নিয়ে এভাবে অনাহারে থাকবেন তা কিছুতেই মানা যায় না। বিষয়টি বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে জানিয়ে দ্রুত তাদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com