ফুটপাতে নয়, নির্দিষ্ট সময়ে দোকানে ইফতার বাজার

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারা দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এরই মধ্যে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। আগামী ২৫ এপ্রিল রমজান শুরু হবার কথা।

রমজানে প্রতি বছর বড় বড় হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাতে দোকান বসে। করোনা পরিস্থিতিতে এবার রমজানে দোকান বসবে কিনা তা নির্ধারণে বৈঠক হবে আজ বৃহস্পতিবার।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে, সরকারি নির্দেশনা মেনে ইফতারির বাজার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসতে পারবে। কোন অবস্থায় নির্দিষ্ট দোকান ছাড়া ফুটপাতে ইফতারির বাজার বসতে দেওয়া হবেনা। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ইফতার বাজার না বসার পক্ষে মত জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আগামী ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু এর মধ্যে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ভাইরাসের বিস্তার রোধে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যেতে জনগণকে বেশ কিছু নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

দেশে শুক্রবার চাঁদ দেখা গেলে আগামী ২৫ এপ্রিল রমজান শুরু হবে। রমজান শুরু হলে আসর নামাজের পর থেকে রাস্তার ওপর দোকান ও রেস্টুরেন্ট থেকে বাহারি ইফতারি কেনার হিড়িক পড়ে। বিশেষে করে পুরান ঢাকায় রমজান মাসে দুপুর থেকে ইফতারের জমজমাট বিকিকিনি হয়।

সরকার করোনা সংক্রমণ রোধে তারাবির নামাজ ঘরে পড়ার অনুরোধ করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব মানা জরুরি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সবজি কিংবা মাছ বাজারে গিয়ে অনেকেই সামাজিক দূরত্ব মানছে না। ইফতারি কিনতে গিয়ে তাড়াহুড়া করবে। কে কার আগে কিনবে প্রতিযোগিতায় এসময় অনেকেই সামাজিক দূরত্ব মানবে না। তাই ইফতার বাজার এ সময়ে শঙ্কারই কারণ। সে ভাবনা থেকেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হবে। ইফতার বাজার বসবে কিনা সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত হবে।

এবিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেককে ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে। সরকার পাঁচওয়াক্ত নামাজ ও তারাবির নামাজ ঘরে পড়ার অনুরোধ করা হয়েছে। রমজানে ইফতারির দোকানের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। জনগণের জন্য যেটা মঙ্গল সেই সিদ্ধান্ত হবে।’

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির (ঢাকা মহনগর দক্ষিণ) সদস্য ও ডায়মন্ড রেস্তোরার প্রোপাইটার হাজী আবুল কাশেম বলেন, ‘রমজানের ইফতারকে সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি আছে। রমজানে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন আজ বা কালের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলে যেন ইফতার নিয়ে বসার সুযোগ দেওয়া হয়। তা না হলে আমাদের মজুদকৃত মালামাল নষ্ট হবে। ইফতার ব্যবসায়ীরা রমজানের জন্য অপেক্ষোয় থাকেন। রমজানের ইনকাম দিয়ে সারা বছর চলেন।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটির করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ মুসলমান। প্রতিদিন ৮ কোটি ৯ লাখ মানুষ রোজা রেখে ইফতার করেন। কেউ খরচ করেন ১০০ টাকা কেউ আবার ২০ টাকা। গড়ে ৩০ টাকা খরচ করলে প্রতিদিন খরচ হয় ৪১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং এক মাসে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ইফতারসামগ্রী বিক্রি হয়। ইফতার তৈরি ও বিক্রিতে এক মাসের জন্য কয়েক লাখ মানুষ কাজ করতে পারেন। রমজানে পুরান ঢাকার অনেক ইফতার ব্যবসায়ী এক মাসের ইনকামে ১১ মাস বসে খান। করোনার কারণে এ মৌসুমী ব্যবসায়ীরা টেনশনে পড়েছেন।’

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রমজানের তারাবির নামাজ বাসায় পড়তে বলা হয়েছে। ইফতারের বাজার বসবে কি বসবে না সেট স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিবে। বাজারে সামাজিক দূরত্ব অনেকেই মানছে না।’

এ ব্যাপারে জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তিনি ২১ এপ্রিল বলেছেন, কাল বা পরশু মন্ত্রণালয়ে সভা হবে। আসন্ন রমজানে ইফতারের বাজার বসবে কিনা সভায় তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘রোজায় কোনোভাবেই ফুটপাতে ইফতারি তৈরি ও বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। রোজায় কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনকে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ-ইফতারি বিতরণের না‌মেও জনসমাগম করতে দেওয়া হবে না।’

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘১ বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। জুমা ও তারাবির নামাজ ঘরে পড়তে অনুরোধ করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে সারা দেশের বাজার বসার নির্দেশ দিয়েছি। সামাজিক দূরত্ব মেনে ইফতার বাজার বসতে পারবে। করোনা নিয়ে সরকারি নির্দেশনা অনেকেই মানছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এজন্য কঠোর হয়েছে। ইফতার বাজারের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com