ব্লিচের সঙ্গে যা মেশালে বিপদ

টেকনিক্যালি বলতে গেলে ব্লিচ কোনো ক্লিনার নয়, এটি হলো ডিসইনফেক্ট্যান্ট। অর্থাৎ ব্লিচ পরিষ্কার করে না, জীবাণুকে ধ্বংস করে। নোংরার সংস্পর্শে আসলে ব্লিচের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

তাই ঘরের মেঝে বা অন্যান্য তল প্রথমে ডিটারজেন্ট বা ফ্লোর ক্লিনারজাতীয় উপাদান দিয়ে পরিষ্কার করুন, এরপর ভাইরাস বা জীবাণু ধ্বংস করতে ব্লিচ সল্যুশন ব্যবহার করুন। ব্লিচ ব্যবহারের সময় তিনটি বিষয়ে সতর্কতা জরুরি: শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে, পানির সঙ্গে মেশাতে হবে এবং ব্যবহারের সময় ঝুঁকি এড়াতে গ্লাভস ও আই প্রোটেকশন পরতে হবে।

ব্লিচকে অন্যান্য কেমিক্যালের সঙ্গে মেশাবেন না, কারণ মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লিচ খুবই প্রতিক্রিয়াশীল বলে পানি ব্যতীত অন্যকিছুর সঙ্গে মেশানো উচিত নয়। ভুলেও ব্লিচের সঙ্গে অন্যান্য ক্লিনার মেশানোর কথা ভাববেন না, কারণ আপনার হয়তো জানা নেই কোন ক্লিনারে কোন কেমিক্যাল আছে। এর ফলে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এখানে ব্লিচের সঙ্গে মেশালে বিপদ ঘটাতে পারে এমন কিছু কেমিক্যাল সম্পর্কে বলা হলো।

অ্যামোনিয়া: বিশেষজ্ঞরা ব্লিচের সঙ্গে অ্যামোনিয়া না মেশাতে কড়া সতর্ক করেছেন। সমস্যা হলো, অনেক ক্লিনারে অ্যামোনিয়া থাকে। একারণে বিশেষজ্ঞরা অন্য ক্লিনারের সঙ্গে ব্লিচের ব্যবহারকে অনুৎসাহিত করেছেন। ব্লিচ ও অ্যামোনিয়ার সমন্বয়ে ক্লোরামিন গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা চোখ ও শ্বাসনালীকে পোড়াতে পারে এবং শরীরের ভেতরের অঙ্গকে ড্যামেজ করতে পারে। অ্যামোনিয়ার ঘনত্ব বেশি হয়ে গেলে হাইড্রাজিনও উৎপন্ন হতে পারে- এটি কেবল বিষাক্তই নয়, বিস্ফোরণও ঘটাতে পারে।

ভিনেগার: ভিনেগারকে নিরীহ প্রকৃতির কিছু মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে তা নয়। এটাকে ব্লিচের সঙ্গে যোগ করলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। উভয়ের সমন্বয়ে ক্লোরিন গ্যাস উৎপন্ন হয়। ক্লোরিন গ্যাস কাশির উদ্রেক করে, শ্বাসক্রিয়া কঠিন করে তোলে ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিকে উক্ত্যক্ত করে। এই গ্যাসের সংস্পর্শে কেমিক্যাল বার্ন হতে পারে এবং ঘনত্ব বেশি হলে বা দীর্ঘসময় সংস্পর্শে থাকলে তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কেবল ভিনেগার নয়, যেকোনো অ্যাসিডকে ব্লিচের সঙ্গে মেশালেই ক্লোরিন গ্যাস উৎপন্ন হবে, এমনকি লেবুর রস মেশালেও।

রাবিং অ্যালকোহল: ব্লিচ ও রাবিং অ্যালকোহলের সমন্বয়ে ক্লোরোফর্ম উৎপন্ন হয়, যা আপনার চেতনা কেড়ে নিতে পারে। শ্বাসকষ্টের রোগীরা পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে না এমন স্থানে জ্ঞান হারালে মৃত্যুও হতে পারে। শ্বাস নেয়ার সময় খুব বেশি ক্লোরোফর্ম ঢুকে গেলে সুস্থ মানুষেরও মৃত্যু হতে পারে। ব্লিচ ও রাবিং অ্যালকোহলের সংমিশ্রণে অন্যান্য বিপজ্জনক পদার্থও তৈরি হতে পারে, যেমন- হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, ক্লোরোঅ্যাসিটোন ও ডাইক্লোরোঅ্যাসিটোন। এর ফলে কেমিক্যাল বার্ন, অর্গান ড্যামেজ, ক্যানসার ও অন্যান্য রোগ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com