ময়মনসিংহের কেওয়াটখালি লোকোসেড থেকে শুরু করে রেলওয়ে স্টেশনের মেইন লাইনের সংযোগ পর্যন্ত ২ কিলোমিটার লাইনের কাজ করা হচ্ছে পাথরের বদলে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ উসমান আলী ও শওকত হোসেন। সরেজমিন দেখা যায়, ময়মনসিংহ জংশনের আউটার সিগন্যাল থেকে কেওয়াটখালী লোকোশেড পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রেললাইন সংস্কারে পাথর না ফেলে এভাবেই বালু ও নিম্নমানের সুঁরকি ফেলে সংস্কার করা হচ্ছে। কোনো রকম তদারকি ছাড়াই কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নগরবাসীর মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। ‘পাথরের বদলে ইটের সুঁরকি’ এমন খবরে মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক ছুটে যান সংস্কার কাজ পরিদর্শনে কেওয়াটখালী। সেখানে বালি-সুঁরকি ফেলে লাইন সংস্কারের দৃশ্য দেখে উপস্থিত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম, সংস্কার ব্যয় ও ওয়ার্ক অর্ডার দেখাতে ব্যর্থ হন। রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী কাজে দেখভাল করলেও এ ব্যাপারে কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি বলে জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আয়েশা হক জানান, যেকোনো উন্নয়ন বা সংস্কার প্রকল্পে কাজের ধরন নিয়ে সাইনবোর্ড লাগাতে হয়। কিন্তু রেলওয়ের এই সংস্কার কাজে কোনো সাইনবোর্ড নেই। এমনকি রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসানকে মোবাইল ফোনে সংস্কার প্রকল্পের কাগজপত্র নিয়ে বিকালের মধ্যে আসার নির্দেশ প্রদান করা হলেও তিনি আসেননি- এটি খুবই দু:খজনক। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরের পরিবর্তে বালি ও নিম্নমানের সুঁরকি ফেলায় এতে রেললাইন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন কালাম বলেন, রেললাইন নির্মাণে ইটের খোয়ার পরিবর্তে পাথর ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে প্রতিবাদে কর্মসূচি দেয়া হবে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ জানান, রেললাইন সংস্কারের নামে এখানে সরকারি অর্থ অপচয় এবং পরিকল্পিত লুটপাট চলছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি। রেলওয়ে ময়মনসিংহের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখতে টেন্ডারের মাধ্যমে সাময়িকভাবে রেললাইন সংস্কার করা হচ্ছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প ব্যয় সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি তিনি। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সারাদিন নানান গুঞ্জন চলছিল। দলবদলের সবচেয়ে বড় বোমাটা বোধ হয় ফাটাতে চলছেন লিওনেল মেসি। অবশেষে বাংলাদেশ সময় রাতে মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে আরও। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা ও আর্জেন্টাইন একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ১৯ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা ছাড়ার জন্য ক্লাবে কাগজপত্রও পাঠিয়ে দিয়েছেন মেসি। দ্রুত চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকানা খুঁজতে চান আর্জেন্টাইন জাদুকর। বার্সার সঙ্গে মেসির বর্তমান চুক্তি আছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। ওই চুক্তি নবায়ন তো পরের কথা, শেষ করেও যেতে রাজি নন মেসি।

স্প্যানিশ সাংবাদিক গুলিয়াম বালাগ বলছেন, রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে প্রাক মৌসুমের অনুশীলনও শুরু করতে নারাজ মেসি। এর আগেই বার্সা ছাড়তে চান তিনি। মেসির ব্যাপারে আগ্রহী ক্লাবের তালিকায় ম্যানচেস্টা সিটির নাম শোনা যাচ্ছে কিছুদিন ধরে। ইএসপিএন জানিয়েছে মেসিকে কেনা সম্ভব কি না সেই ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছে সিটি। মঙ্গলবার আগ্রহী ক্লাবের তালিকায় শোনা গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাম।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্য রাকোন দাবি করেছে বার্সেলোনা মেসির কাছ থেকে ফ্যাক্স করা কাগজপত্রও হাতে পেয়েছে। তবে বার্সার দাবি চুক্তিভঙ্গ করতে জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত সময় ছিল মেসির হাতে। পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে জরুরী বৈঠকে বসছেন তারা।

কোম্যান কোচ হয়ে আসার পর শুক্রবার তার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মেসি। মেসি বা কোম্যান কেউই কোনো খবর চাউর করেননি। তবে ওই বৈঠকে নাকি মেসি কোম্যানকে জানিয়েছিলেন, ক্লাবে থাকার চেয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তার।

ছোটবেলা থেকে বার্সেলোনার একাডেমিতে বড় হয়ে মূল দলে ঢুকেছিলেন মেসি। ক্লাবের অধিনায়কও তিনি তিন বছর ধরে। বার্সেলোনার ইতিহাসে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়ও ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন। অনেক ঘটনার ২০২০ সালে শেষ পর্যন্ত মেসিও বার্সেলোনা ছাড়লে সেটা বোমা বিধ্বস্ত হওয়ার মতোই হবে ফুটবল দুনিয়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com