যে বয়সীদের আক্রান্তের হার বেশি, মৃত্যু কম

দেশে দিন দিন করোনায় আক্রান্তের হার বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর হার। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্তের খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারপর থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ‍ ও মৃত্যুর হার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কমবেশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

বয়সের দিক থেকেও তিন মাস থেকে শুরু করে একেবারে ৯০ বছরের বেশি বয়স্করাও আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, সেই বয়সীদের মৃত্যুর হার কম। আর যে বয়সীদের আক্রান্তের হার কম, সেই বয়সীদের মৃত্যু বেশি।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী বেশি আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাংবাদকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ২ শতাধিক। পুলিশ আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৬ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪ জন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) অধ্যাপক ডা. শহিদ উল্লাহ জানান, এ পর্যন্ত চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১১১ জন।

জানতে চাইলে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, অ্যানালইসিস করা নেই। মোটামুটি সব শ্রেণি-পেশারই রয়েছে। রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে সবাই।

চাকরিজীবী ব্যবসায়ী বেশি হতে পারে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘর থেকে যারা বেশি রেব হচ্ছেন তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ বৈজ্ঞানিক কর্মকতা বলেন, বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৫০ এর মধ্যে বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ঈয়াং এক গ্রুপ ‘খামাখা’ বের হন। বের হয়ে রাস্তা-ঘাট থেকে আক্রান্ত হন। এদের বের হওয়ার কোনো দরকারই নেই। অথচ বের হন। বলেন যে, বাসায় ভালো লাগে না। তাদের কি ভালো লাগার জন্য বাসায় থাকতে বলা হচ্ছে? যাতে রোগাক্রান্ত না হয় সে জন্য বলা হচ্ছে।

করোনা কেন হয়, কি জন্য হয় কিভাবে ছড়ায় এটা জানে না বাংলাদেশে এখন এমন কোনো লোক নেই উল্লেখ করে তিনি।

আরেক বিশেষজ্ঞ বলেন, সবাই বলে যে গরিব, বস্তির মানুষরা মানবে না। ওরাই বেশি মানে। তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের লোকেরা জানে কিন্তু মানে না।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ঈদে বাড়িতে যাওয়া আসার পথে, গিয়ে বা এসেও আক্রান্ত হতে পারেন।

সামনে পরিস্থিতি কি হতে পারে জানতে চাইলে এএসএম আলমগীর বলেন, বাড়ি গেছে বাড়ি থেকে আবার আসবে। এরপর ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪ দিন। জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ রকম চলবে। এরপরে যদি একটু কমে।

যাওয়ার পরে গ্রাম ঝুঁকিতে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবার আসার পরে শহর ঝুঁকিতে পড়বে। কেউ নিয়ে গেছেন, আবার কেউ তো নিয়েও আসবে। অতএব ১৪ জুন পর্যন্ত একটা ঝুঁকি থেকেই গেলো।

কোন বসয়ীদের মৃত্যুর হার বেশি জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, মৃত্যুর হার ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের বেশি।

তবে আক্রান্তে বিশ্লেষণে দেখা গেছে- মৃত্যুর হার ৬০ ঊর্ধ্বদের বেশি।

এ পর্যন্ত দেশে ৩৮ হাজার ২৯২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এরে মধ্যে মারা গেছেন ৫৪৪ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে- ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আক্রান্তের হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ৬০ বছরের উপরে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

আক্রান্তের দিক থেকে বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে মৃত্যুর হার- ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ২ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ০ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৭ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে ১৯ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৭ শতাংশ এবং ৬০ বছরের উপরে ৪২ শতাংশ।

নারী পুরুষ আক্রান্তের বিশ্লেষণে পুরুষের আক্রান্তের হার ৭১ শতাংশ, নারী ২৯ শতাংশ। আক্রান্তে হিসেবে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট সুস্থ হয়েছে ৭ হাজার ৯২৫ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com