লোকসানের মুখে বৈশাখী ব্যবসায়ীরা

আজ পয়লা বৈশাখ। প্রতি বছর নানা আয়োজনে দিনটা উদ্‌যাপন করে বাঙালি। এই দিনটিকে ঘিরে সব শ্রেণি পেশার মানুষ নিজ নিজ সাধ্য অনুযায়ী পছন্দের পোশাক, সাজ-সজ্জার উপকরণ, বাঙালি সংস্কৃতির ধারক-বাহক হিসেবে পরিচিত নানা পণ্য কিনে থাকে। তাই বৈশাখ আসলেই রাজধানীর শপিংমলগুলো সাজে বৈশাখীর সাজে। কিন্তু এ বছর মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এর কোনো কিছুই হয়নি।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশের সব স্থানের শপিংমল ও ছোট বড় মার্কেট বন্ধ রয়েছে। যার কারণে পয়লা বৈশাখ ঘিরে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্য হয়নি।

রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় লণ্ঠন ফ্যাশন হাউজের ম্যানেজার মোহাম্মদ রাসেল হোসেন মোবাইলে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের শোরুমে বৈশাখ উপলক্ষে অনেক নতুন নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবির কালেকশন রাখি। কিন্তু এইবার করোনার কারণে দোকানই বন্ধ। অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল বৈশাখের ব্যবসা নিয়ে। কিন্তু কিছুই হলো না। খুব খারাপ সময় যাচ্ছে আমাদের।’

রাসেল হোসেন বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে আমরা কারখানায় অনেক পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার অর্ডার দিয়েছিলাম। আগে জানা ছিল না দেশে এমন দুর্যোগ আসবে। বৈশাখের কাপড় তো আর পরে বিক্রি হয় না। তাই এবার আমাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।’

রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের অপরুপা ফ্যাশন হাইজের এক কর্মকর্তাও মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমার শোরুমে সব মেয়েদের পোশাকের কালেকশন। বৈশাখে আমরা নিজস্ব কিছু ডিজাইনের পোশাক আনি। ভালো বিক্রিও হয়। এবারও বৈশাখ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সব পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের।’

রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেটের এক চুরি ব্যবসায়ী বলেন, ‘বৈশাখ এলেই বাহারি রকমের চুরি, টিপ, আংটিসহ মেয়েদের সাজগোজের নানা জিনিস বিক্রি হয়। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এই সময়ে সারা বছরের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু এবার দোকানই খুলতে পারছি না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আশা করি, বেঁচে থাকলে আগামী বছর বৈশাখে আবার বিক্রি করব।’

ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো আরিফুর রহমান টিপু রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ ঘিরে নানা ধরণের আয়োজন করে পুরো দেশবাসী। এবার করোনার কারণে কোনো আয়োজন করা সম্ভব না। গত বছর বৈশাখে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছিল দেশ জুড়ে। এবার সব শিপংমল, দোকানপাট সব বন্ধ। তাই বড় ধরনের বাণিজ্য থেকে বঞ্চিত হলেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে আগেই বিনিয়োগ করে ফেলেছিলেন। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসান আরো বেড়েছে। এবার সব দোকান বন্ধ। কেনা-বেচা নেই। করোনার আঘাত পড়েছে বৈশাখী বাণিজ্যে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com