সেঞ্চুরির জন্য ৯ ঘন্টা ব্যাটিং!

টেস্ট ইতিহাসের দ্রুততম ও মন্থরতম সেঞ্চুরির সময়ের পার্থক্য কতোটুকু জানেন? ৮ ঘন্টা ৭ মিনিট! কল্পনা করা যায়?

১৯২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার জর্জ গ্রেগরি মাত্র ৭০ মিনিট ব্যাটিং করে টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন।৯৯ বছরেও `নটআউট’ তাঁর রেকর্ড। আরেকদিকে ১৯৭৭ সালে পাকিস্তানের মুদাসসার নজর সেঞ্চুরির জন্য ৫৫৭ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। ৯ ঘন্টা ১৭ মিনিট ব্যাটিং করে তিন অঙ্কের দেখা পান। ৪৩ বছর হলো, তাঁর রেকর্ডটিও টিকে আছে।

সেবার লাহোরের উইকেটে আহামরি কিছু ছিল না। ইংল্যান্ডের বোলাররাও যে খুব বেশি ভালো করছিলেন তেমনটাও নয়। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ব্যাটিং করছিলেন ডানহাতি ওপেনার; ‘পা বাড়িয়ে নাও। ব্লক দ্য বল। দেখেশুনে জায়গায় মারো। পুনরায় তিনটি কাজ করো।’

তাতেই কেটে যায় ৫৫৭ মিনিট। বব উইলিস, জন লিভার, ওল্ড, মিলার ও কোপে তাকে বোলিং করতে করতে ক্লান্ত! ন্যুনতম কোনো ঝুঁকি নেননি, রান সংগ্রহে তাড়া দেখাননি। ওভারের পর ওভার খেলে গেছেন কোনো চিন্তা ছাড়াই। বাউন্ডারির খাতা তো বন্ধ করেই নেমেছিলেন মাঠে!

পাকিস্তানের অধিনায়ক ওয়াসিম বারী টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তখনও আট বলে ওভার হতো। পাকিস্তানের হয়ে ইনিংসের শুরু করেন সাদিক মোহাম্মদ ও ২১ বছর বয়সি মুদাসসার নজর। তখন পাকিস্তান দল মানেই ‘ভাই-ব্রাদার্সে’ ভরা। সাদিক ছিলেন ভাইদের মধ্যে চতুর্থ যিনি পাকিস্তানকে টেস্টে প্রতিনিধিত্ব করেন। পাশাপাশি তাদের আরেক ভাই ছিলেন টেস্টের দ্বাদশ খেলোয়াড়। আবার মুদাসসার নজর ছিলেন নজর মোহাম্মদের ছেলে। তাঁর বড় ভাই ছিলেন মুবাসসির নজর।

ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি ভাঙতে ১০৩ মিনিট লেগেছিল। সাদিক আউট হলেও মুদাসসার ছিলেন অনসং। প্রথম দিন সারাদিন ব্যাটিং করে ৫২ রানে অপরাজিত ডানহাতি ওপেনার।

দ্বিতীয় দিনও তাঁর একই ব্যাটিং। কোনো পরিবর্তন নেই। তবে তাঁর রান যখন ৯৯ তখন ঘটেছিল অনাকাঙ্খিত ঘটনা। মাঠে ঢুকে পড়েন দর্শক। ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমের পাশে পাওয়া যায় চার রেফিউজিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটু দ্রুত চা-বিরতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় মাঠে অবস্থান করে পুলিশ।
বিরতির পর ফিরে এক রানের জন্য ২৫ মিনিট অপেক্ষা করেন মুদাসসার। ৪১৯ বলে ৫৫৭ মিনিটে তিন অঙ্কের দেখা পান পাকিস্তানের ওপেনার। পুরো ইনিংসে মেরেছিলেন এক ডজন চার।

৬৪ বছর বয়সি মুদাসসার ১৯৫৬ সালের ৬ এপ্রিল পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তানকে ৭৬ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রান করেছেন ৪১১৪, উইকেট আছে ৬৬টি। সেঞ্চুরি পেয়েছেন ১০টি, হাফ সেঞ্চুরি আছে ১৭টি। অবসরের পর পাকিস্তানের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুদাসসার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com