স্বাস্থ্যকর্মীদের নিম্নমানের মাস্ক ও গগলস দেওয়ার অভিযোগ

দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়।

ইতোমধ্যে এক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত ৯০ জন চিকিৎসকের করোনায় আক্রান্তের খবর মিলেছে। কোয়ারেন্টাইনে আছেন তিন শতাধিক চিকিৎসক।

স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ সরকারি পর্যায়ে সরবরাহকৃত পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুয়েপমেন্ট (পিপিই) মান সম্মত না হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের আক্রান্তের হার বাড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালগুলোতে শপিং ব্যাগের কাপড়ের তৈরি নিম্নমানের পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। যা দিয়ে ভাইরাস প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এছাড়া করোনার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে এন-৯৫ মাস্ক যেখানে অপরিহার্য, সেখানেও টিস্যু কাপড়ের মাস্ক দেওয়া হয়েছে। চোখের সুরক্ষার জন্য যে গগলস দেওয়া হয়েছে তা চায়না থেকে আমদানী করা শিশুদের খেলনা গগলস মানের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বাংলাদেশ ডক্টরস ফেডারেশন (বিডিএফ) এর প্রধান সমন্বয়ক ডা. নিরুপম দাশ বলেন, ‘চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই রোগীদের চিকিৎসা ও তাদের নিরাপত্তায় পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশান ইকুয়েপমেন্ট) দেওয়ার দাবি করে আসছে। যে ধরনের পিপিই সরবরাহ করা হচ্ছে, তা মান সম্মত নয়। ফলে একের পর এক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে।’

মানসম্মত পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে কর্ম বিরতিতে গেছেন রংপুর মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিয়ে কর্ম বিরতিতে যান ১১২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। দাবি আদায় না হলে কাজে যোগ দেবেন না বলেও জানান তারা। তাদের দাবি, ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিলেও তাদের পিপিই এমনকি গ্লোভস, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে না। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

এদিকে গণমাধ্যমে কথা বলা ও তথ‌্য না দিতে নার্সদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। ১৫ এপ্রিল অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com