হাওরে দেশীয় মাছের পোনা শিকার

হবিগঞ্জের হাওরে দেশীয় মাছের পোনা শিকার চলছেই। তাই এ অঞ্চলে এবার আকাল দেখা দিতে পারে দেশীয় মাছের।

তবে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছের পোনা জব্দের পর হাওরে অবমুক্ত করছে মৎস্য বিভাগ। জব্দ করা হচ্ছে জালসহ বিভিন্ন উপকরণও।

তবে পুলিশ অথবা ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় শিকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহজাদা খসরু জানান, এ বছর বৃষ্টি ও পানি আসতে দেরি হওয়ায় দেশীয় মাছের প্রজননে বিলম্ব হয়েছে। তবে এতে বোরো ধানের জন্য ভালো হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে হাওর এলাকায় বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় মাছ টাকি, শোল, গজার, গুতুম ও কৈসহ বিভিন্ন মাছের ডিম থেকে পোনা বের হয়েছে।

কিন্তু হাওর এলাকায় দিনের বেলা ও রাতে দল বেধে লোকজন এক ধরনের জাল দিয়ে এ পোনামাছ শিকার করছে। এতে করে হাওরে মাছের সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে মাছের অভাব পূরণ করতে হলে এ পোনা নিধন বন্ধ রাখতে হবে।

মৎস্য বিভাগের লোকবল কম থাকায় বিশাল হাওরে পোনা মাছ শিকার বন্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। লোকজন পাতিল রেখে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

বানিয়াচং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, তিনি ৮ জুন উপজেলার শতক, কাগাপাশা ও আমন হাওরে অভিযান পরিচালনা করে অন্তত ৫০ কেজি পোনা জব্দ করেছেন। সেখানে কমপক্ষে ৫০ লাখ পোনা হবে। বেশ কিছু জালও জব্দ করা হয়েছে। লোকবল না থাকায় নৌকা জব্দ বা কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে হাওরে জব্দকরা পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রায় দিনই তিনি এভাবে পোনা জব্দ করে হাওরে অবমুক্ত করছেন। এ ব্যাপারে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করার দাবি জানান তিনি।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, যারা এভাবে মাছের পোনা শিকার করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালনা করা হবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com