৭১ -এ পা দিলেন নায়ক আলমগীর

প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, ৩ এপ্রিল ২০২০

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা আলমগীর ৭০ বছরের অধ্যায় পূর্ণ করেছেন। আজ তার নতুন আরেকটি জন্মদিন। সেই হিসেবে নতুন বসন্তে তিনি। ঢাকাই সিনেমার বর্ষীয়ান এ অভিনেতা ৭১ বছরে পা দিলেন আজ। ১৯৫০ সালের আজকের এই দিনে (৩ এপ্রিল) জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ে তিনি নয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তার পিতা কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর অন্যতম প্রযোজক।

১৯৭৩ সালে আলমগীর কুমকুম পরিচালিত যুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘আমার জন্মভূমি’র মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে আলমগীরের। পরে শাবানার বিপরীতে ‘চাষীর মেয়ে’ ও কবরীর বিপরীতে ‘লাভ ইন শিমলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিত পান তিনি।

তিনি ১৯৭৪ সালে আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘গুন্ডা’ চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ও কবরীর সঙ্গে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। তাহের চৌধুরী পরিচালিত ‘মাটির মায়া’ চলচ্চিত্রে ফারুক ও রোজিনার সঙ্গে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৮ সালে দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত ‘জিঞ্জীর’ চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ও সোহেল রানার সঙ্গে অভিনয় করেন।

১৯৮৪ সালে তিনি আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘ভাত দে’ ও ‘সখিনার যুদ্ধ’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এই দুটি ছবিতেই তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাবানা। এর মধ্য দিয়ে শাবানার সঙ্গে তার জুটি গড়ে ওঠে, যা পরের এক দশক বাংলা চলচ্চিত্রে রাজত্ব করে।

আলমগীর কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিতে ‘দীপক চৌধুরী’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৮৫ সালে আলমগীর পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম চলচ্চিত্র ‘নিষ্পাপ’। ‘অপেক্ষা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি দ্বিতীয়বার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৪ সালে আলমগীর অভিনয় করেন কাজী হায়াৎ পরিচালিত নাট্যধর্মী ‘দেশপ্রেমিক’, শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘যুদ্ধ’, ‘ঘাতক’ ও গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত ‘স্নেহ’ চলচ্চিত্রে। ‘দেশপ্রেমিক’ চলচ্চিত্রে তিনি একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের ভূমিকায় অভিনয় করে সপ্তমবারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৯৫ সালে তিনি দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘কন্যাদান’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন সালমান শাহ ও লিমা। পরের বছর তিনি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন রচিত ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ উপন্যাস অবলম্বনে আখতারুজ্জামান পরিচালিত ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করেন।

এ ছাড়া পার্শ্ব চরিত্রে সোহেল রানা অভিনীত ‘অজান্তে’, সালমান শাহ অভিনীত ‘মায়ের অধিকার’ ও ‘সত্যের মৃত্যু নাই’, ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনীত ‘দুর্জয়’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

২০১০ সালে শাহাদাত হোসেন লিটন পরিচালতি ‘জীবন মরণের সাথী’ চলচ্চিত্রে আশরাফ চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

পরের বছর অভিনয় করেন ‘কে আপন কে পর’, ‘হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ’ ও তাঁর নিজের প্রযোজিত ‘মাটির ঠিকানা’ চলচ্চিত্রে। ‘কে আপন কে পর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

সর্বশেষ অভিনয় করেন নিজের পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে। এ ছবিতে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক চরিত্রে অভিনয় করেন। এ পর্যন্ত তিনি তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। জন্মদিনে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন এ তারকা।

আলমগীরের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে, ‘ক্ষতিপূরণ’, ‘মরণের পরে’, ‘পিতা মাতা সন্তান’ ও ‘অন্ধ বিশ্বাস’ চলচ্চিত্রের জন্য টানা চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

কেএ/ডিএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকঃ শারমিন আক্তার, প্রকাশকঃ মোঃ এনামুল হক, হুজাইফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কর্তৃক চৌধুরী মল ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা রোড), টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩ হতে প্রকাশিত। ফোন-ফ্যাক্স: ৭১২৫৩৮৬। । ই-মেইল: tatkhonik@gmail.com